বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুরস্কার গ্রহণ শেষে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘লেখক হিসেবে পুরস্কৃত হয়ে গৌরব অর্জনকে আমার সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক বড় একটি দিক মনে করি। যে দিকটা ধারণ করে আমি অনেককে আলোকিত করতে পারব, অনুপ্রাণিত করতে পারব। আমরা প্রজন্মকে সাহিত্যপাঠে তৈরি করব, অনুপ্রাণিত করব।’

ফাতেমা আবেদীন বলেন, ‘ছোটবেলায় আমার বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল বই। পুরো পৃথিবী আমার কাছে এসেছে বইয়ের মাধ্যমে। আমিও বইয়ের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর কাছে পোঁছাতে চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই লেখক জাফর ইকবাল বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ যখন বেঁচে ছিলেন, তখন কিন্তু পাঠক তাঁকে একেবারে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এ দেশের বড় বড় লেখক তাঁকে গ্রহণ করেননি। তাঁকে অপমান করার জন্য নানা ধরনের শব্দ আবিষ্কার করেছেন। যখন তিনি বেঁচে ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে ভালো কথা বলেননি; বরং এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার সময় একজন হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রশংসা করলে অন্য লেখকেরা তার প্রতিবাদ করেছিলেন। হ‌ুমায়ূন আহমেদ এসবের বিন্দুমাত্র কেয়ার করতেন না।’

default-image

জাফর ইকবাল বলেন, শুধু বাংলাদেশের পাঠক নয়, পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি আছে তার ঘরে হ‌ুমায়ূন আহমেদের একটি বই না থাকলে বুঝতে হবে ‘কোনো একটা সমস্যা আছে’।

অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘টেলিভিশন নাটকে আমার যে জনপ্রিয়তা, সেটি গড়ে তুলেছিলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। তাঁর গল্প বলার যে অসাধারণ ক্ষমতা, ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার যে অসাধারণ দক্ষতা, এর কোনো তুলনা এখন পর্যন্ত আমি খুঁজে পাইনি।’

শনিবার পাঠকনন্দিত লেখক হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। তার আগের দিন ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার-২০২১’ দিল এক্সিম ব্যাংক ও পাক্ষিক পত্রিকা অন্যদিন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান আগেই পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছিল।

default-image

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, জুরিবোর্ডের সদস্য ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, এক্সিম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. আবদুল বারী, হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও অভিনয়শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন প্রমুখ।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ২০১৫ সাল থেকে ‘কথাসাহিত্যে সার্বিক অবদান’ ও ‘নবীন সাহিত্য শ্রেণি’ দুটি ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন