বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অবশিষ্ট ৬২ জন চেয়ারম্যান ও সদস্যের মধ্যে বেশ কয়েকজনের কারণ দর্শানোর জবাবের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা চলছে, ফলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের বিষয়ে আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।

* ১০৮ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। * তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং ৭১ জন সদস্য। * ৬২ জন চেয়ারম্যান ও সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়নি।

খোর্দ্দকোমরপুর ইউপির অপসারিত চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজের টাকায় এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। যে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি আমি করি নাই। রিট করতে গেলে আরও টাকা লাগত, তাই পদ ছেড়ে দিছি।’ ২০১৮ সালে গাইবান্ধা জেলার মধ্যে সেরা ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছিলেন আরিফুর রহমান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের মধ্যে ৯০ জনই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

অনিয়মে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের তাঁদের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি কারণ দর্শাতে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক হওয়া, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা থেকে খালাস এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ৮ জনপ্রতিনিধির সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা হয় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জয়নগর ইউপির সদস্য শেখ মোশারফ হোসেন এবং সংরক্ষিত সদস্য রনি বেগমের। তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের সাজা মওকুফ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

আদালত থেকে বরখাস্তের আদেশের স্থগিতাদেশ নিয়ে স্বপদে ফিরেছেন জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্যানেল আইনজীবীদের মাধ্যমে এসব আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী প্রথম আলোকে বলেন, বরখাস্তের পরবর্তী কার্যক্রমগুলো দ্রুত শেষ করে আনা হচ্ছে। আদালতের স্থগিতাদেশগুলোর বিরুদ্ধে আপিল করতে মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা কাজ করছে।

জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত হওয়ার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাল চুরি, ত্রাণ লুট, উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি এবং নগদ সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ করেছেন অনেকে। যেনতেনভাবে নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান প্রথম আলোকে বলেন, এখন স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন দলীয় পরিচয়ে। দলীয় পরিচয় তাঁদের ক্ষমতার উৎস। যাঁরা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকছেন, তাঁরাই অনিয়মে বেশি জড়াচ্ছেন। শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই পরিস্থিতি এতটা খারাপ অবস্থায় এসেছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন