২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া ঘটনার পরপরই হ্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রিটটি করেন।

এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) ও শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে রহস্য উদ্‌ঘাটনে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট র‍্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছে র‍্যাব। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ দিন ধার্য ছিল।

তবে র‍্যাবের পক্ষ থেকে সেদিনও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২৬ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালতের নথিপত্রের তথ্য বলছে, এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৮৭ বার সময় নিয়েছে তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত ১০ বছরে বিচারিক আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এখনো মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে রুলের জবাব ১০ বছর পরও পাওয়া যায়নি। আশার কথা হচ্ছে, এখন আদালতে যেকোনো দিন রুলের ওপর শুনানি শুরু হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন