১২ কোটি টাকার ল্যাসিক যন্ত্র পড়ে আছে

বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকায় কেনা ল্যাসিক করার যন্ত্রটি পাঁচ মাস ধরে পড়ে আছে। জনবল-সংকটের কারণে যন্ত্রটি চালু করা যাচ্ছে না।
ল্যাসিক হচ্ছে মানুষের চোখে আলোর প্রতিসরণজনিত দৃষ্টিত্রুটিকে লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সারিয়ে দেওয়ার এক ধরনের অত্যাধুনিক পদ্ধতি৷ ইদানীং চশমা পরা বাদ দিতে অনেকেই ল্যাসিকের দিকে ঝুঁকছে৷
জানা গেছে, গত ২৯ জুন ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের জন্য ল্যাসিক করার যন্ত্রটি সরবরাহ করা হয়। এসপি ট্রেডিং হাউসের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাবট মেডিকেল অপটিক ওই যন্ত্র সরবরাহ করে। দরপত্র অনুযায়ী বিদেশি ওই প্রতিষ্ঠানেরই দুই দফায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা। একই সঙ্গে আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ, দক্ষ জনবল, বিশেষ করে সার্বক্ষণিক বায়োগ্রাফিক প্রকৌশলী থাকতে হবে। কিন্তু এসব কিছুই দেওয়া হয়নি। সিঙ্গাপুরে নামমাত্র সাত দিনের একটি প্রশিক্ষণ ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয়নি। এসব কারণে যন্ত্রটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী চোখের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে পাঁচজন রোগী চোখে অস্ত্রোপচার, চোখে আঘাত ইত্যাদি কারণে আন্তবিভাগে ভর্তি হয়। এসব ক্ষেত্রে ফ্যাকো যন্ত্র ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে যাদের দূরদৃষ্টি ও কাছের দৃষ্টিতে তীব্র সমস্যা এবং যারা মোটা লেন্সের চশমা ব্যবহার করে, তাদের চিকিৎসা দিতে ল্যাসিক যন্ত্রের প্রয়োজন।
হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান মো. নিজাম উদ্দিন ফারুক জানান, ল্যাসিক যন্ত্র চালাতে ৮০ ভাগ কাজ হচ্ছে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের। বাকি ২০ ভাগ কাজ করবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা। সার্বক্ষণিক প্রকৌশলী থাকতেই হবে। অথচ চক্ষু বিভাগের তিনজন চিকিৎসক ছাড়া আর কোনো জনবল নেই।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। এসব যন্ত্র কেনার আগে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বাস্তবে তা করা হয় না। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে একশ্রেণির ঠিকাদারের যোগসাজশে এসব যন্ত্র কিনে হাসপাতালগুলোয় চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দক্ষ জনবল না থাকায় হাসপাতালে আইসিইউ বিভাগ চালু হয়নি। এমআরআই যন্ত্রও অকেজো পড়ে আছে।
হাসপাতালের পরিচালক কামরুল হাসান জানান, চাপিয়ে দেওয়ার কথা ঠিক নয়। চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান শহীদুল আলমের চাহিদার ভিত্তিতে ওই বিভাগের জন্য ল্যাসিক যন্ত্রটি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে লোকবল নেই। তবে যন্ত্রটি চালু হলে লোকবল দেওয়া হবে।