১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার আবেদনই করেনি পুলিশ

মাসুদ আলম
মাসুদ আলম

প্রথম আলোর যশোরের অভয়নগর প্রতিনিধি মাসুদ আলমকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা আসামি সুফিয়ান ফকিরের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করেনি পুলিশ।
পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুধু ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে গত শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সুফিয়ানকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
গত ২৩ জুলাই উপজেলার ধোপাদী গ্রামের একটি বাগান থেকে সুফিয়ানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি মাসুদ আলম হত্যাচেষ্টা মামলাসহ হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি। ওই দিন রাতে সুফিয়ানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ধোপাদী গ্রামের রূপসা পোলট্রি ফার্মের দেয়ালের পাশ থেকে একটি দেশি তৈরি পাইপগান, তিনটি রামদা ও দুটি গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ জুলাই পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, রিমান্ডে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের নির্দেশে মাসুদ আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয় বলে সুফিয়ান ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেন। কিন্তু শনিবার পুলিশ রহস্যজনক কারণে বিচারিক আদালতের হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আবেদন না করে সুফিয়ানকে আদালতে উপস্থিত করেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

জানতে চাইলে সুফিয়ানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভয়নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মহাসিন হাওলাদার বলেন, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে ১৬১ ধারায় চেয়ারম্যান পরিতোষ বিশ্বাসের নির্দেশে মাসুদ আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছেন বলে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে যশোরের আইনজীবী জি এম কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে আবেদন করতে পারত এবং সেটাই যথার্থ ছিল। পুলিশের কাছে দেওয়া ১৬১ ধারায় জবানবন্দির কোনো বিচারিক মূল্য নেই।

গত ২৮ মার্চ ধোপাদী গ্রামের উলুরবটতলা এলাকায় সুফিয়ান ফকিরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মাসুদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মাসুদের শরীরের নিচের অংশ গুরুতর জখম হয় এবং বাঁ হাত ভেঙে যায়। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর সম্প্রতি তিনি ভারতের ভেলর খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন।

হামলার পরের দিন মাসুদের বড় ভাই শেখ নূর আলম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। এক মাস পর ২৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত হয়। যশোর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মুনসী আবু কুদ্দুস ১০ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৩১ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।