২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় দিনে ১৬ জনের মৃত্যু
২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। কমেছে হতাহতের সংখ্যাও। এরপরও গত বছর ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, দিনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ১৫ হাজার ৯১৪ জন।
‘বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ২০১৬’-তে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির তৈরি করা প্রতিবেদনটি গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০টি জাতীয় দৈনিক, ছয়টি অনলাইন পত্রিকা ও ছয়টি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে টেলিভিশনে প্রচারিত খবর থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের মতে, প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এতে হতাহতের যে সংখ্যা উঠে এসেছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। কারণ প্রত্যন্ত এলাকায় সংঘটিত অনেক দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমগুলোতে আসে না। পুলিশের কাছেও এর হিসাব থাকে না। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনা রোধসহ এর প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণের জন্য এ কাজে স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তাঁরা।
প্রতিবেদনের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে ৩৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর নিহত হওয়ার সংখ্যা কমেছে ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৬৪২ জন নিহত হয়। আহত হয় ২১ হাজার ৮৫৫ জন। অন্যদিকে, ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত হয়। আহত হয় ১৫ হাজার ৯১৪ জন।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা খানিকটা কমলেও তা সন্তোষজনক নয়।
উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সড়ক দুর্ঘটনাকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার পরামর্শ দিয়েছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি। সমিতি মনে করে, সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রচারণা, রোড শো, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের রোড সেইফটি ইউনিট গঠন, ২২টি জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশাসহ নসিমন-করিমন চলাচল বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ, বেশ কয়েকটি মহাসড়কে দুই লেন-চার লেন চালু করা এবং সড়ক বিভাজক স্থাপনসহ ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কারণে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমেছে। এ ছাড়া কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক বছরের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক মাহবুবুল আলম তালুকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি রুস্তম আলী খান প্রমুখ।