বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে দক্ষ জনবলের অভাব অন্যতম। এর ফলে যুগের চাহিদা মিলিয়ে যেসব খাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোয় যুগোপযোগী আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। প্রায় জায়গাতেই প্রশিক্ষণ উপকরণ পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী। প্রশিক্ষণ বাজেট অপ্রতুল। অধিদপ্তরের ঋণ তহবিলেরও স্বল্পতা রয়েছে।

তবে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অর্জন কম নয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণে বদলে গেছে বহু তরুণের জীবন। জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যুব উদ্যোক্তারা নিজেদের আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন। যুব আত্মকর্মীদের অনেকের আয় মাসে লাখ টাকার ওপরে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, অধিদপ্তরের কাজের ব্যাপ্তি ঘটিয়ে আরও বেশিসংখ্যক যুবদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা দরকার। প্রশিক্ষণ শেষে আত্মকর্মী হতে অর্থের প্রয়োজন। অধিদপ্তরের তহবিল বাড়িয়ে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত যুবকেরা যেন ব্যাংক থেকে ঋণ পান, সে জন্য একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

অধিদপ্তরের তহবিল–স্বল্পতা রয়েছে। সীমিতভাবে ঋণ দিতে হয়। যে অল্প টাকা ঋণ দেওয়া হয়, তাতে প্রকল্প চালু করা যায় না। আবার অনেকেই প্রশিক্ষণ শেষে আর এই কাজ করতে আগ্রহী হন না।
আবদুল ফারুক , রংপুর জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা অধিদপ্তরের উপপরিচালক

কত প্রশিক্ষণ, কত আত্মকর্মী

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অধিদপ্তরের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৬৬ লাখ ৪২ হাজারের বেশি যুব নারী-পুরুষ। এর মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ করতে পেরেছেন ২২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি যুব। তাঁদের মধ্যে ৯ লাখ ৯১ হাজার যুবককে ঋণ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের শুরু থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের আত্মকর্মসংস্থান হয়েছে।

২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানের সংখ্যা কমেছে। এই সময়ে ৩৩ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি যুবকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন মাত্র ৭ লাখ ৭০ হাজার যুবক। এই সময়ে ৪ লাখ ৬৫ হাজার যুবককে ঋণ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের আমলে প্রশিক্ষণ পাওয়া এক-চতুর্থাংশের আত্মকর্মসংস্থান হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুব বেকারত্বের হার বেশি। দেশের বিশাল যুবগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো যুগোপযোগী কি না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে মিল রেখে যেসব কর্মসংস্থানের চাহিদা রয়েছে, সে অনুযায়ী অধিদপ্তরের কারিকুলাম করতে হবে।
জাহিদ হোসেন, অধিদপ্তরের কার্যক্রমের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ

ঋণ অপ্রতুল, আত্মকর্মী কম

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার যুবকে ১৪৬ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দেয়। ঋণ তহবিল–স্বল্পতার জন্য প্রতিবছর মোট প্রশিক্ষিত যুবদের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণসহায়তা পায় না। ব্যক্তি খাতে অধিদপ্তর ১ লাখ টাকার বেশি ঋণ দিতে পারে না। আবার ঋণের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কোনো যুবককে তিনবারের বেশি ঋণ দেওয়ার সুযোগ নেই।

রংপুর জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, অধিদপ্তরের তহবিল–স্বল্পতা রয়েছে। সীমিতভাবে ঋণ দিতে হয়। যে অল্প টাকা ঋণ দেওয়া হয়, তাতে প্রকল্প চালু করা যায় না। আবার অনেকেই প্রশিক্ষণ শেষে আর এই কাজ করতে আগ্রহী হন না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের এক-তৃতীয়াংশ অন্তত আত্মকর্মী হবেন—এমনটাই ধারণা। অধিদপ্তরের ঋণ ছাড়াও অনেকে আত্মকর্মী হন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ লাখ ৮ হাজারের বেশি যুবকে ঋণ দিয়েছে অধিদপ্তর। বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। অধিদপ্তর বর্তমানে তিন ধরনের ঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। ব্যক্তিভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থান ঋণ কর্মসূচির আওতায় ঋণের পরিমাণ প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পভেদে ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। প্রকল্পভেদে ঋণের অর্থ ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ ২৪ থেকে ৩৬টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়।

গোষ্ঠীভিত্তিক পরিবার ঋণ কর্মসূচিতে একই পরিবার বা নিকটতম প্রতিবেশী থেকে কর্মক্ষম পাঁচজনকে নিয়ে গ্রুপ তৈরি করে ঋণ দেওয়া হয়। প্রতি সদস্যকে ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। সুবিধাভোগীদের ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ ৫২টি সাপ্তাহিক কিস্তিতে তা পরিশোধ করতে হয়।

পরীক্ষামূলক উদ্যোক্তা ঋণ

প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা পেয়ে যাঁরা সফল আত্মকর্মী হয়েছেন, তাঁদের ব্যবসার প্রসার ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে অধিদপ্তর। গত বছরের ১০ জানুয়ারি পাইলট কর্মসূচি হিসেবে আটটি বিভাগীয় জেলায় ‘যুব উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচি’ চালু করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় একজন সফল আত্মকর্মীকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৮১ জন সফল আত্মকর্মীকে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঋণের টাকা ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ ৪৮টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। এখন পর্যন্ত ঋণ আদায়ের হার ৯৯ শতাংশ।

ঋণসহায়তা বাড়াতে সমঝোতা

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। যার মূল লক্ষ্য প্রশিক্ষিত যুবদের মধ্যে যাঁরা অধিদপ্তরের ঋণসুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছেন এবং অধিদপ্তরের অল্প পরিমাণ ঋণ নিয়ে যাঁরা পুঁজির অভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না তাঁদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।

অধিদপ্তরের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিবছর ৩০ হাজার প্রশিক্ষিত যুবকে ঋণসুবিধা দেবে। ঋণের পরিমাণ প্রকল্পভেদে ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ। ২০২০ সালের মার্চের পর থেকে প্রায় ২১ হাজার তরুণকে প্রায় ২৭২ কোটি টাকা দিয়েছে কর্মসংস্থান ব্যাংক।

চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি এনআরবিসি ব্যাংকের সঙ্গে অধিদপ্তরের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। সে অনুযায়ী, এনআরবিসি ব্যাংক থেকে প্রতিবছর ৫০ হাজার প্রশিক্ষিত যুবকে ঋণসুবিধা দেওয়া হবে। প্রকল্পভেদে ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঋণের সুদের হার ৪ থেকে ৯ শতাংশ। মাঠপর্যায়ে এ ঋণের বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

নানামুখী প্রশিক্ষণ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বেসিক কম্পিউটার, মৎস্য, পোশাক তৈরি, মোবাইল সার্ভিসিং, গবাদিপশু পালনসহ ৮৩টি বিষয়ে (ট্রেডে) প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির আওতায় আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সম্প্রতি ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন, নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণসহ ১২টি নতুন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিদপ্তরের ৬৪ জেলায় নিজস্ব আবাসিক এবং ৭১ অনাবাসিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র আছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ এক থেকে ছয় মাস মেয়াদি। অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ৭ থেকে ২১ দিন মেয়াদি। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরাই কেবল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীন প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।

সফলতার পেছনে অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ

রংপুর শহরের ফাস্ট ফুড ও মিষ্টান্নের দোকানের স্থানীয় ব্র্যান্ড ক্যাপ্টেনস ব্যাকোলজির প্রতিষ্ঠাতা গোলাম ইব্রাহিম যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত আত্মকর্মী। তাঁর শুরুটা হয়েছিল প্রায় ২০ বছর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য পালন প্রশিক্ষণ নিয়ে। এরপর যুব উন্নয়ন থেকে একাধিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। একাধিকবার অধিদপ্তর থেকে পেয়েছেন ঋণ। সর্বশেষ গত বছর সাড়ে তিন লাখ টাকার উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন।

গত ৮ মার্চ রংপুর শহরের হনুমানতলা এলাকায় অবস্থিত ক্যাপ্টেন গ্রুপের খামার ও কারখানায় বসে কথা হয় ইব্রাহিমের সঙ্গে। বর্তমানে ইব্রাহিমের খামারে শতাধিক গরু রয়েছে। রংপুর শহরে ক্যাপ্টেনস ব্যাকোলজির ছয়টি শাখা দিয়েছেন। বর্তমানে ক্যাপ্টেন গ্রুপের বার্ষিক লেনদেন ১০ কোটি টাকার। ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ থেকেই আমার শুরু। প্রশিক্ষণটা যুবকদের মধ্যে কিছু করার আগ্রহ তৈরি করে। অধিদপ্তর থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়।’

গত বছর রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে যুব পুরস্কারে প্রথম হয়েছেন শৈবাল রহমান। তিনি ২০১৫ সালে অধিদপ্তর থেকে ডিজাইন, ব্লক, বাটিক ও কাটিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে রংপুরের মুন্সীপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনের নিচতলায় কারখানা ও শোরুম দিয়েছেন। রংপুর শহরে রয়েছে ফ্যাশন গার্ডেন বুটিকস জোনের একাধিক শোরুম। শৈবালের অধীনে কাজ করছেন ২১ জন কর্মী।

শৈবাল রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর অনেকটা পরিবারের মতো। তাদের প্রশিক্ষণ ও সমর্থন না পেলে এত দূর আসতে পারতাম না। করোনার আগে মাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় ছিল।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কেন্দ্র

দেশের প্রতিটি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্প নিয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ‘শেখ জামাল উপজেলা যুব প্রশিক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ শীর্ষক এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। এই কেন্দ্রগুলোকে ‘তরুণ কর্মসংস্থান কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা অধিদপ্তরের। পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে এখানে।

অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্প প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। কমিশন কিছু নির্দেশনা দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ৩০০টি জায়গা নির্ধারণ করা আছে। সরকারি খাসজমিতে করা হবে নাকি অধিগ্রহণের মাধ্যমে নেওয়া জমিতে করা হবে, এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে অধিদপ্তর।

৪০ হাজার চালক তৈরির উদ্যোগ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব বলছে, দেশে ৫১ লাখের বেশি যানবাহন চলছে। অন্যদিকে দেশে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য চালক আছেন ২৮ লাখ। অর্থাৎ ২৩ লাখ যানবাহন ‘ভুয়া’ চালক দিয়ে চলছে। দেশে দক্ষ চালকের অভাব রয়েছে। প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অদক্ষ চালকের বেপরোয়া চালানোকে বড় কারণ বলে মনে করেন সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনারোধে দক্ষ চালক তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের নেওয়া তিন বছর মেয়াদি ‘যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণ প্রকল্প’–এর আওতায় ৪০ হাজার কর্মপ্রত্যাশী যুবককে যানবাহন চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১০৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের অধীনে ৬৪টি জেলার ৪০টি কেন্দ্রে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ শেড, ট্রেনিং ট্র্যাক, র‍্যাম্প এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

অধিদপ্তরের কার্যক্রমের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুব বেকারত্বের হার বেশি। দেশের বিশাল যুবগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো যুগোপযোগী কি না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে মিল রেখে যেসব কর্মসংস্থানের চাহিদা রয়েছে, সে অনুযায়ী অধিদপ্তরের কারিকুলাম করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন