default-image

ভারতে প্রশিক্ষণ পাওয়া মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করার সুযোগ না পেলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন। তবে দেশের ভেতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হতে হলে অবশ্যই হানাদার বাহিনী বা তাদের দোসরদের সঙ্গে কমপক্ষে একটি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইসংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জানুয়ারির যাচাই কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি সেল গঠন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) আটজন কর্মকর্তাকে আট বিভাগের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে ৫ হাজার ৫০০–এর বেশি যাচাই–বাছাই কমিটি করা হয়েছে।

সারা দেশে একযোগে জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাঁদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘বেসামরিক গেজেটে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকে ৩৯ হাজার ৯৬১ জনের তালিকা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। এখন উপজেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৬৯৯। যেসব এলাকায় পৌর নির্বাচন হবে, সেসব এলাকায় ৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ৬ ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। কোথাও এক দিনে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে কমিটি প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করতে পারবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ৩০ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরির পথ সুগম হবে। জামুকা আইন অনুযায়ী, জামুকার সুপারিশ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট প্রকাশ করা যায় না। তাই এবারের যাচাই–বাছাই।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জামুকা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যাদের সমর্থনে অন্য কোনো প্রমাণক (লাল মুক্তির্বাতা, ভারতীয় তালিকাসহ ৩৩ ধরনের প্রমাণক) নেই। এঁদের মধ্যে যেসব ব্যক্তির ২০১০–এর আগে প্রকাশিত জামুকার সুপারিশবিহীন শুধু গেজেট রয়েছে, কিন্তু অন্য কোনো প্রমাণক নেই, তাঁরা ৩০ জানুয়ারি ও ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তালিকাভুক্ত কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে জামুকার কাছে অভিযোগ দেওয়া যাবে।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের জামুকা থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছে, জামুকা আইন মেনে প্রকাশিত বেসামরিক গেজেট জামুকার সুপারিশ ছাড়া প্রকাশিত হয়েছে, এটা নিশ্চিত হতে হবে। জামুকা আইন ২০০২ সালে হলেও ২০১০ সালের আগে জামুকা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ওই সময়ে প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট জামুকার সুপারিশবিহীন বিবেচনা করতে হবে।

জামুকার ৭১তম সভায় জামুকার অনুমোদন ছাড়া যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম বেসামরিক গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে, তা যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাচাইয়ের কাজটি শেষ করতে চেয়েছিল জামুকা। পরে ৯ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। সে সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসে ৩০ জানুয়ারি যাচাই–বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসে ১২ হাজার টাকা ভাতা পান। ঈদ বোনাসসহ বছরে সব মিলিয়ে একজন ভাতা পান ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে জেলা প্রশাসনের তালিকার ভিত্তিতেই ১ লাখ ৯২ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা পাঠানো হতো। কিন্তু এমআইএস সফটওয়্যারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর সংখ্যাটি ২১ হাজার কমে গেছে। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ১ লাখ ৭১ হাজার জনকে ভাতা পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন