default-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী বিক্ষোভের জেরে রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায় হামলা, ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে আরও ১৩টি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে তিন দিনের ওই সংঘাতের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৩টি মামলা হলো। এসব মামলায় বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী এবং অজ্ঞাতনামাসহ প্রায় ২০ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। নতুন করে মামলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে।

গত ২৬ মার্চ ও পরবর্তী দুই দিনে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এসব ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও পটিয়া, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ফরিদপুরের ভাঙ্গায়ও সহিংসতা হয়। এসব ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ১৯টি। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ৮টি, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৭টি, ঢাকায় ৪টি, কিশোরগঞ্জে ২টি এবং মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১টি করে মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রথম আলোনিজস্ব প্রতিবেদকপ্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ সূত্র বলছে, এই জেলায় তিন দিনের সহিংসতায় ৪২টি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন, পুলিশের ৬টি স্থাপনাসহ সরকারি ও আধা সরকারি স্থাপনা রয়েছে ২২টি। একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে এই জেলায়। এ ছাড়া মন্দির, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের হিসাবে এই জেলায় ৩ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের যানবাহনে ভাঙচুর চালানো ও আগুন দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসব ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমে সাতটি মামলা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত হয় আরও চারটি মামলা। পরে সরাইলে একটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় আরও আটটি মামলা হয়।

পুলিশ সূত্র বলেছে, গত ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা প্রায় আড়াই হাজার জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। একই দিন বিকেলে জেলা শহরের ভাদুঘরে বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা মৎস্য কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ২৭ মার্চ পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা করেছে। এ মামলায় সাতজনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতাল পালনের সময় জেলা গণগ্রন্থাগারে জামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭ মার্চ সরাইল উপজেলার অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মামলাগুলোয় গতকাল পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার বিষয়গুলো জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. রইছ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের পর থেকে কিশোরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস দমন আইনে গতকাল পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় গতকাল আরও দুটি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে এই জেলায় সহিংসতার ঘটনায় আটটি মামলা হলো। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ প্রায় দেড় হাজার জনকে আসামি করা হলেও গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে একজন। পুলিশ সূত্র বলেছে, গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দুটি হয়েছে বিআরটিসি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির পক্ষ থেকে। বিআরটিসির বাস এবং ডিবিসির গাড়ি ভাঙচুর করা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের মামলা দুটিতে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে গতকাল দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আকবর হোসেনকে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের একটি মামলায় আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে এখানে সহিংসতার ঘটনায় সাতটি মামলা হলো। হাটহাজারীতে ডাকবাংলোয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. এজাজ গত বুধবার রাতে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। এর আগে হাটহাজারী থানায় হামলা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ সহিংসতার বিভিন্ন অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ও ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে পৃথক ছয়টি মামলা হয়। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় আড়াই হাজার জনকে আসামি করা হয়।

ফরিদপুরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় গত শনিবার দুপুরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ওই দিন রাতেই অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়। এ মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে, হামলার পেছনে কাদের মদদ ছিল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন