'আমি ভালো বাংলা বলতে পারি'

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নেমেছিল মানুষের ঢল। এখানে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকেরাও ছিলেন। তাঁরাও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
কালো পাঞ্জাবি পরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসেছেন ইতালির নাগরিক ফাদার জোওয়া। কাছে গিয়ে পরিচয় দিতেই স্পষ্ট ও দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘আমি ভালো বাংলা বলতে পারি।’
১০ বছর ধরে এই ধর্মযাজক বাংলাদেশে কাজ করছেন। প্রতিবছরই আসেন ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। জোওয়া প্রথম আলোকে বললেন, বাংলার মানুষের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলতে তাঁর বড্ড ভালো লাগে।
আগ্রহ থেকেই গল্প এগোয়। জোওয়া একপর্যায়ে ক্ষোভ নিয়ে বললেন, ‘এ দেশের মানুষ বাংলার জন্য অনেক গর্ব করে। কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন আছে, মানুষ এত বাংলিশ ভাষা বলে কেন? অনেক বাঙালি ছেলেদের সঙ্গে কথা বলি আমি। তারা দুটি শব্দ বাংলায় বলে আর দশটা বলে ইংরেজিতে। একি অবস্থা!’
তিনি আরও বলেন, ‘ইংরেজি ভাষা দরকার। এটা শিখতে হবে, শেখাতে হবে। কিন্তু মাতৃভাষা কেন ভুলে যাব? বাংলা ভাষা সবাই ভালোবাসে, কিন্তু আমার মনে হয় শ্রদ্ধাটা অত সুন্দরভাবে তাঁরা দিতে পারেনি।’
ইতালির আরেক নাগরিক ফ্রাঙ্কো শামাসিসা শহীদবেদিতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে মিনারের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তাঁর ইংরেজিটা অতটা ঝরঝরে নয়। দোভাষীর মাধ্যমে ফ্রাঙ্কো প্রথম আলোকে বললেন, ‘বাংলাদেশের এত মানুষ মাতৃভাষার প্রতি অনেক গর্ব করে, শ্রদ্ধা জানাচ্ছে—এটা দেখে তিনি অনেক খুশি।’

সাদা শার্ট ও কালো কোর্ট-প্যান্ট পরে ছয় চীনা নাগরিককে দেখা গেল শহীদবেদিতে ফুল দিতে। ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে প্রত্যেকের চোখেমুখে দেখা যাচ্ছিল উচ্ছ্বাস। ফুল দেওয়া শেষে তাঁরা শহীদবেদিতে ওঠেন। তাঁরা স্কাউট ও বিএনসিসি স্বেচ্ছাসেবকদের ফুল দিয়ে সাজানো বিভিন্ন নকশা ঘুরে দেখেন। মুঠোফোনে ছবি তোলেন মুহূর্তটা ধরে রাখতে।
জার্মানির নাগরিক জুলুইজ বাংলাদেশ ঘুরতে এক মাস আগে এসেছেন। মাতৃভাষার প্রতি এ দেশের মানুষের শ্রদ্ধাবোধ তাঁকে মুগ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতটা সময় নারী ও শিশুরা দাঁড়িয়ে আছে শুধু ফুল দেওয়ার জন্য। ভাষার প্রতি এতটা শ্রদ্ধা আর কোনো জাতির আছে বলে তাঁর জানা নেই।