অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এখন ২৯৫টি, বিক্রি করতে হবে সরকার নির্ধারিত দামে

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান আজ ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেনছবি: পিআইডি

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করেছে সরকার। এই তালিকায় এখন ওষুধের সংখ্যা ২৯৫। এসব ওষুধ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হবে। তবে ওষুধশিল্পের মালিকেরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন।

আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতিরও অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। এখন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা ২৯৫। এই ওষুধগুলোর মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। তালিকায় থাকা এসব ওষুধ দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চাহিদা মেটাবে এবং এসব ওষুধ দেশের মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি তৈরির জন্য টাস্কফোর্স ও কমিটি করা হয়েছিল। এই টাস্কফোর্স ও কমিটি ওষুধবিশেষজ্ঞ, ওষুধশিল্প মালিক, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও পরামর্শক, গবেষকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক সভা করেছে ও তাঁদের সুপারিশ নিয়ে তালিকা ও নীতি চূড়ান্ত করেছে। তালিকাভুক্ত ওষুধের মধ্যে ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগের ওষুধও আছে।

সায়েদুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যব্যয়ের দুই–তৃতীয়াংশ চলে যায় ওষুধের পেছনে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও উদ্বেগ ছিল। সরকার মনে করেছে, ওষুধের মূল্য যেন প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। মানুষের কাঁধ থেকে ব্যয়ের বোঝা কমানোর জন্যই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেই করা হয়েছে।

সরকারি এ উদ্যোগ ওষুধশিল্পের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, মূল্য সমন্বয় করার জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলো চার বছর সময় পাবে। যাদের মূল্য কম, তারা বাড়াবে, যাদের বেশি, তারা ক্রমান্বয়ে কমাবে।

এখানেই শেষ নয়, তালিকার বাইরে বাজারে থাকা ওষুধের দামও সরকারের নীতি অনুসারে নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম বা বেশি মূল্যে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে। কোনো কোম্পানি নিজে কোনো ওষুধের দাম ঠিক করে তা বাজারে বিক্রি করতে পারবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে উৎপাদনের ২৫ শতাংশ রাখতে হবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা থেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের কমিটির সঙ্গে তাঁদের এক–দুবার কথা হয়েছে। কিন্তু গঠনমূলক আলোচনা হয়নি। মূল্য নির্ধারণ কমিটি সমিতিকে অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমিতি এ ব্যাপারে দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সভায় ডেটা সংরক্ষণ, শিল্পকলা একাডেমিতে নতুন বিভাগ খোলাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সভার মূল আলোচনার বিষয় ছিল ওষুধ।