অমর একুশে বইমেলা ঈদের পরে আয়োজনে তারেক রহমানকে প্রকাশকদের খোলা চিঠি

অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ঈদের পরে আয়োজনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য। পাশাপাশি সংগঠনটি দেশের প্রকাশনাশিল্পকে রুগ্‌ণ উল্লেখ করে তা রক্ষার বিষয়েও বিএনপির এই শীর্ষ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

তারেক রহমান বরাবর এক খোলা চিঠিতে প্রকাশক ঐক্য এসব দাবি জানায়। চিঠিটির অনুলিপি আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে সংগঠনটি।

চিঠিতে প্রকাশকদের এই সংগঠনটি বলেছে, মেলা বর্জন নয়, বরং চাওয়া একটি ‘সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা’। তাঁদের দাবি ছিল পবিত্র রমজান ও নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক, যখন পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ-উভয়ই থাকবে। কিন্তু যৌক্তিক এই দাবিগুলো উপেক্ষা করে একপ্রকার জোর করেই প্রকাশকদের একটি ব্যর্থ মেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যে মেলায় দেশের সামনের সারির প্রায় সব প্রকাশকসহ তিন শতাধিক মূলধারার প্রকাশক অংশ নিতে অপারগ।

তারেক রহমানের নির্দেশনা চেয়ে চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘সামনেই আপনি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। একটি নতুন সরকারের যাত্রা শুরুতে আমরা চাই না একুশের চেতনার এই মেলাটি কোনোভাবে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হোক। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সুচিন্তিত একটি নির্দেশই পারে ধ্বংসের হাত থেকে এই শিল্পকে বাঁচাতে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশক সমাজের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। সংগঠনটির চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনার এই একটি সিদ্ধান্ত কেবল হাজারো প্রকাশককে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাবে না, বরং প্রমাণ করবে যে নতুন সরকার জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও জনমতের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।

প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় প্রকাশনাশিল্প এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কাগজের আকাশচুম্বী দাম এবং আনুষঙ্গিক সংকটে প্রকাশকেরা আজ দিশাহারা।

আরও বলা হয়, এমন এক বাস্তবতায়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাহে রমজানে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। রোজার ফলে দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রাণ। তাদের অনুপস্থিতিতে এবং রোজার মাসে অনুষ্ঠেয় এই মেলা হবে নিশ্চিতভাবেই পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ। দেশের ৯০ ভাগ প্রকাশক মনে করছেন, এই সময়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা হবে তাঁদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র শামিল। এই অবস্থায় কাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই মেলা আয়োজনে এত তৎপরতা, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

দেশের সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে চিঠিতে ১৪ জন প্রকাশকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউজ), এ কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হক (অনন্যা), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন), জসীম উদ্দিন (কথাপ্রকাশ), মোহামম্মদ নাজিম উদ্দিন (বাতিঘর প্রকাশনী), মো. মোবারক হোসেন (পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন), মো. গফুর হোসেন (রিদম ), ইকবাল হোসেন সানু (লাবনী), দীপঙ্কর দাশ (বাতিঘর), মো. জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন, সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬), মাহরুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল: সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬) এবং মাহাবুর রাহমান (আদর্শ; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬)।