পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কারের’ নিয়ম বাদ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকাফাইল ছবি

পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কারের’ (সাইলেন্ট এক্সপেল) পুরোনো নিয়ম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ শনিবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশের পর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা পরিচালনা–সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬–এর সংশ্লিষ্ট ২৯ অনুচ্ছেদ বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বাতিল করা ২৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো পরীক্ষার্থীকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করে যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকসহ পরীক্ষা–সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে; কেবল সেই ক্ষেত্রেই নীরব বহিষ্কার করা যাবে। তবে বিষয় বা পত্রের পরীক্ষা শেষে প্রত্যবেক্ষকের সুস্পষ্ট বিবরণসহ গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। (উত্তরপত্রের ওএমআরের প্রথম অংশ আলাদা করা যাবে না)।

এর আগে আজ সচিবালয়ে আসন্ন মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের এবং উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে ‘নীরব বহিষ্কারের’ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষামন্ত্রী ‘নীরব বহিষ্কার’–এর পুরোনো ধারা রহিত করা হবে বলে জানান। মতবিনিময় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা–সংক্রান্ত কোনো বিধিতে ‘আনডিউ’ কিছু থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনেও এমন বিধান নেই। মূলত বোর্ডের ১৯৬১ সালের নীতিমালায় এ ধারা যুক্ত রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই। তাই এ নীতিমালা এখন আর প্রযোজ্য নয়। দ্রুত নীতিমালা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষা দেবে। মানসিক চাপ তৈরি হবে—এমন কোনো বিধিনিষেধ পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু

এদিকে আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সভায় বলা হয়, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। সে হিসেবে দুই বছর পূর্ণ হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চান শিক্ষার্থীরা। আলোচনা করে ২ জুলাই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন