বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেইসি সভায় আইকনিক মসজিদ নির্মাণসংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়। প্রথমত, পূর্বাচলে একটি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন। দ্বিতীয়ত, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন। তৃতীয়ত, সারা দেশে চলমান ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা।

আলোচনা শেষে সৌদি আরব ৯টি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়নে সম্মত হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে চলমান মডেল মসজিদ নির্মাণে অর্থায়নের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি সৌদি আরব।

দুই দিনের বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল ২’ নামের একটি প্রকল্পে সৌদি আরবের অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে জ্বালানি তেলের পরিশোধনক্ষমতা বাড়বে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইকনিক মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে সৌদি সরকার সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে আলাদা করে সমঝোতা স্মারক সই হবে দুই দেশের মধ্যে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) আউয়াল হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইকনিক মসজিদ নির্মাণে সৌদি সরকার বাংলাদেশকে অর্থায়ন করবে বলে জানিয়েছে। আমরা এরই মধ্যে মসজিদ নির্মাণের স্থান চূড়ান্ত করে এ–সংক্রান্ত প্রকল্প সৌদি আরবে পাঠিয়েছি। নকশাও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। দেশটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে।’

আউয়াল হাওলাদার জানান, চলমান মডেল মসজিদ নির্মাণে প্রথম দিকে সৌদি আরব সরকার রাজি হয়েছিল। পরে আর অর্থায়ন করেনি। কিন্তু এবার আইকনিক মসজিদের বিষয়ে রাজি হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চলমান ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণে সৌদি আরব সরকার অর্থ দেবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের এপ্রিলে একনেক সভায় ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’–সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সৌদি সরকারের ৮ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি দেশটির রয়্যাল কোর্টে (মন্ত্রিসভা) উপস্থাপন করা হলে সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়া যায়নি। পরে সরকার নিজেদের টাকায় মডেল মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়, যা এখনো চলমান।

গত পাঁচ বছরে মডেল মসজিদ প্রকল্পের আওতায় ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে আরও ১০০টি মসজিদ উদ্বোধন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আউয়াল হাওলাদার।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় ৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকায় ঠেকেছে। প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

জেইসি সভায় অংশ নেওয়া এক প্রতিনিধি জানান, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মডেল মসজিদ নির্মাণ বাবদ কাঙ্ক্ষিত টাকা বরাদ্দ দিতে পারছে না সরকার। সে কারণে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, এবারের জেইসি সভায় দুই দেশের মধ্যে ‘এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম’ নামের একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল; যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে আগামী বছরের মধ্যে চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি হলে এ দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাদে অন্য চিকিৎসক ও নার্স সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে দুদিনের বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল ২’ নামের একটি প্রকল্পে সৌদি আরবের অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে জ্বালানি তেলের পরিশোধনক্ষমতা বাড়বে। সৌদি সরকার এই প্রকল্পের অর্থায়নে রাজি হয়েছে।