এবার দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো কাজী জাফর উল্যাহকে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক শারিকা ইসলাম এ মামলায় কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত ওই দিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলাটি তদন্তাধীন। এজাহার অনুযায়ী, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখার তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া নাম ও ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোট ১০টি এফডিআর হিসাব খোলেন আসামি। সেখানে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা রাখা হয়। পরে হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সুদ হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভুয়া গ্রাহকের নামে নগদ অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি এই অপরাধলব্ধ অর্থ গ্রহণ ও গোপন করেন।
এসব কর্মকাণ্ডের জন্য কাজী জাফর উল্যাহ ও অন্যদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এজাহারভুক্ত আসামি কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে বন্দী। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।