এমন অবস্থায় আজ সোমবার পালিত হবে জাতিসংঘ গৃহীত ‘বিশ্ব নগর দিবস’; যার মূল উদ্দেশ্য হলো টেকসই নগর উন্নয়ন করা। ২০১৪ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও নগরায়ণ বাড়ছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি হারে মানুষ নগরে বসবাস করছে। কিন্তু নগরগুলো হতশ্রী, বাসযোগ্যতায় পিছিয়ে।

ঢাকা মহানগরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের নগর পরিকল্পনাবিদ আবু মুছা মো. আব্দুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, শুধু ঢাকা বা বিভাগীয় শহর নয়, দেশের অন্য এলাকাগুলো পরিকল্পনার আওতায় না আনলে টেকসই নগর গড়া সম্ভব নয়। কারণ, মানুষ বাড়ছে, উন্নয়নও হচ্ছে। কিন্তু এ উন্নয়নকে ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করার জন্য কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে। মহাপরিকল্পনা না থাকলে এগুলো রক্ষা করা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট আয়তনের মাত্র প্রায় ৪ হাজার ৭০১ বর্গকিলোমিটার এলাকার গেজেটভুক্ত মহাপরিকল্পনা আছে, যা দেশের মোট আয়তনের মাত্র ৩ শতাংশের সামান্য বেশি। আইন অনুযায়ী, এ এলাকায় যেকোনো ধরনের অবকাঠামো গড়া বা উন্নয়ন হবে মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী।

ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত উপায়ে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। এ কাজে সংস্থাটি ব্যবহার করে ঢাকা মহানগরের জন্য প্রণয়ন করা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা। পরিকল্পনা থাকার পরও ঢাকা শহরের অবস্থা যখন করুণ, তখন যেসব এলাকার কোনো মহাপরিকল্পনা নেই, সেসব এলাকার অবস্থা আরও শোচনীয় হওয়ার শঙ্কাই বেশি।

গেজেটভুক্ত মহাপরিকল্পনা বা বিশদ পরিকল্পনা না থাকার কারণে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ, জলাশয় ভরাট, বন উজাড় ও কৃষিজমি অকৃষি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১ শতাংশ কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যায়। জনপ্রতি চাষযোগ্য জমির পরিমাণও কমছে। দেশে বর্তমানে জনপ্রতি জমির গড় পরিমাণ ১২ শতাংশের কিছু বেশি, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই সামান্য। এলাকাভিত্তিক মহাপরিকল্পনা থাকলে কৃষিজমি কমে যাওয়ার প্রবণতা কমানো যেত।

মহাপরিকল্পনা আছে কোন শহরে

সারা দেশকে মহাপরিকল্পনার আওতায় এনে কোন জমি কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব মূলত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজটি করে এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে।

২০৫০ সাল নাগাদ দেশের অর্ধেক মানুষ যে নগরগুলোতে বাস করবে, সেই নগর কি ঢাকার মতো বাসযোগ্যতাহীন হবে, শব্দদূষণে, বায়ুদূষণে কি শীর্ষ শহরের তালিকায় থাকবে, গণপরিবহনে, রাস্তার আয়তনে কি পিছিয়ে থাকবে, নাকি মোটামুটি বাসযোগ্য হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মহাপরিকল্পনা করা ও তার বাস্তবায়নের ওপর।

এখন পর্যন্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজউক ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান আছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মহাপরিকল্পনা করতে পারেনি। অন্য তিন কর্তৃপক্ষ নিজেদের আওতাধীন ৩ হাজার ৮৬৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার নগরায়ণ কীভাবে হবে, সে–সংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা করেছে, যেগুলো গেজেটভুক্ত। একই মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের গেজেটভুক্ত মহাপরিকল্পনা আছে মাত্র পাঁচটি এলাকার জন্য—বরিশাল সদর, সিলেট সদর, কক্সবাজার, মাদারীপুর ও রাজৈর উপজেলা। এই পাঁচ এলাকার আওতায় আছে ৭৬৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত ৩২৮ পৌরসভার মধ্যে ৫টির মহাপরিকল্পনা তৈরি করে তার গেজেট করতে পেরেছে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া ও মাধবী পৌরসভা। এসব পৌরসভার মোট আয়তন প্রায় ৬৩ বর্গকিলোমিটার।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট আয়তনের মাত্র প্রায় ৪ হাজার ৭০১ বর্গকিলোমিটার এলাকার গেজেটভুক্ত মহাপরিকল্পনা আছে, যা দেশের মোট আয়তনের মাত্র ৩ শতাংশের সামান্য বেশি। আইন অনুযায়ী, এ এলাকায় যেকোনো ধরনের অবকাঠামো গড়া বা উন্নয়ন হবে মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী।

বাক্সবন্দী মহাপরিকল্পনা

নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি করে এলাকার মহাপরিকল্পনার গেজেট হলেও মন্ত্রণালয় দুটির দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরটি ১৯৮১ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা নিয়ে মোট ৪৪২টি মহাপরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে জেলা শহরের পৌরসভা এলাকার জন্য মহাপরিকল্পনা ছিল ৫০টি এবং ৩৯২টি মহাপরিকল্পনা ছিল বিভিন্ন উপজেলার জন্য। কিন্তু এগুলোর কোনোটিরই গেজেট হয়নি। ফলে এ পরিকল্পনাগুলো মাঠপর্যায়ে কার্যকর হয়নি।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০০৮ সালে তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫৬টি পৌরসভা ও ২টি সিটি করপোরেশনের মহাপরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অজানা কারণে ৫টি পৌরসভা ছাড়া আর কোনো এলাকার মহাপরিকল্পনার গেজেট হয়নি। এতে এসব পরিকল্পনাও বাক্সবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ফলে মহাপরিকল্পনা করার প্রকল্প বাস্তবায়নে যে টাকা খরচ হয়েছিল, তার অপচয় হয়েছে। মহাপরিকল্পনা করতে কত টাকা খরচ হয়েছিল, তার হিসাব জানা যায়নি। তবে একাধিক এলাকার মহাপরিকল্পনা করেছিল এমন দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জেলা পর্যায়ের প্রতিটি পৌরসভার মহাপরিকল্পনা করতে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ের পৌরসভার জন্য ৭ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা করে ব্যয় হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা প্রথম আলোকে বলেন, এ মহাপরিকল্পনাগুলোর গেজেট হলে বাংলাদেশে নগরায়ণের ইতিবাচক একটি ধারা তৈরি হতো। সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব এলাকার জন্য মহাপরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী কাজ করা। না হলে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে সার্বিকভাবে সব শহরেই বাসযোগ্যতা কমবে।

নগরায়ণ থেমে নেই

দেশ স্বাধীনের পর থেকে বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ভৌত অবকাঠামো, বাড়িঘরসহ সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এ সময়ে মানুষের আর্থিক সামর্থ্যও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকার বড় শহর ও পৌর এলাকা ছাড়াও গ্রামে–গঞ্জে, হাটবাজারে ও উপজেলা সদরে যত্রতত্র পাকা বাড়িঘর ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ শহরে বাস করত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এখন দেশের মোট জনসংখ্যার ৩১ দশমিক ৫১ ভাগ শহরে বাস করে।

সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের অন্তত অর্ধেক জনগোষ্ঠী শহরে বাস করবে। সে অনুযায়ী শহরগুলো সাজাতে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় চলতি বছরের মধ্যে সারা দেশের জন্য ‘জাতীয় ভৌত ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন’, ২০২৫ সালের মধ্যে ২৫০টি উপজেলার এবং ২০৩০ সালের সব উপজেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। যদিও আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।

কমিটি আছে, কাজ নেই

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯–এর দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী, রাজউকের মতো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাবহির্ভূত এলাকায় নতুন বাড়ি, দালান নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ এবং বিপজ্জনক দালান নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদের দায় রয়েছে। এমন এলাকায় ইমারত বা স্থাপনার নকশা অনুমোদন এবং দালানের গুণগতমান নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে ইমারত বা স্থাপনার নকশা অনুমোদনসংক্রান্ত কমিটি গঠন করা আছে। ২০১৭ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটির মোট সদস্য হবেন ১১ জন। ১৯৫২ সালের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও ১৯৯৬ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে ভবনের নকশা অনুমোদন দেবে এ কমিটি। কিন্তু বাস্তবে কমিটির তেমন কার্যক্রম নেই।

কমিটির কার্যক্রম ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের অবস্থা দেখতে সরকারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় ৭টি উপজেলা ও ১টি পৌরসভায় একটি জরিপ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত করা এ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাইর উপজেলায় বছরে গড়ে ৮টি, নরসিংদী সদর উপজেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩০ থেকে ৩২টি ভবন অনুমোদন নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

জরিপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, উপজেলাগুলোতে নামমাত্র কয়েকটি ভবনের অনুমোদন নেওয়া হয়। মূলত যাঁরা ব্যাংকঋণ নেন বা অন্য কোনো কাজে অনুমোদিত ভবন দেখাতে বাধ্য হন, কেবল তাঁরাই অনুমোদনের জন্য আসেন। বাকিরা আসেন না। বাস্তবে অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ভবনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হবে। তিনি বলেন, এ কমিটি ঠিকভাবে কাজ করলে পরিকল্পিত নগরায়ণের কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারত।

পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই

যেসব এলাকার ভূমি ব্যবহার নিয়ে মহাপরিকল্পনা আছে, সেসব এলাকায় নগরায়ণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। ঢাকা মহানগরের জন্য প্রণয়ন করা নতুন ড্যাপের তথ্য অনুযায়ী, রাজউকের আওতাভুক্ত এলাকায় বিদ্যমান স্থাপনার সংখ্যা ২১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৬। আইন অনুযায়ী, প্রতিটি স্থাপনা গড়ার ক্ষেত্রেই রাজউক থেকে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ড্যাপের তথ্য বলছে, রাজউক এলাকায় ৯৫ শতাংশ স্থাপনাই আইন না মেনে নির্মাণ করা হয়েছে।

রাজউকের ২০১০ সালের ড্যাপে বন্যাপ্রবাহ এলাকা এবং জল ধারণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত অঞ্চলের পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন ড্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ড্যাপে চিহ্নিত বন্যাপ্রবাহ এলাকায় ৭২ হাজার ১৮১টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যার প্রায় সব অবৈধ। আবার জল ধারণ এলাকার মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৯০টি। এর গুটিকয় বৈধ, বাকিগুলো অবৈধ।

কিছুটা ব্যতিক্রম রাজশাহী

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনার (২০০৪-২০২৪) কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়েছে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার সংশোধিত মহাপরিকল্পনা তৈরির অংশ হিসেবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সমীক্ষাটি হয়। এ সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজশাহীর মহাপরিকল্পনার প্রায় ৩০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণেই রাজশাহী দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও গোছানো বলে উল্লেখ করেছেন বিআইপির সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা। তিনি বলেন, পরিকল্পনাকে শ্রদ্ধা করার সংস্কৃতি রাজশাহীতে আছে, খুলনাতেও কিছুটা দেখা যায়; অন্য এলাকায় এ সংস্কৃতি নেই।

২০৫০ সাল নাগাদ দেশের অর্ধেক মানুষ যে নগরগুলোতে বাস করবে, সেই নগর কি ঢাকার মতো বাসযোগ্যতাহীন হবে, শব্দদূষণে, বায়ুদূষণে কি শীর্ষ শহরের তালিকায় থাকবে, গণপরিবহনে, রাস্তার আয়তনে কি পিছিয়ে থাকবে, নাকি মোটামুটি বাসযোগ্য হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মহাপরিকল্পনা করা ও তার বাস্তবায়নের ওপর।