শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস খায়রুলের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও সাবেক সচিব খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তাঁর স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। খায়রুল ইসলাম বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাবেক নির্বাহী সদস্য।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরস্পরের যোগসাজশে প্রতারণা ও অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়ায় সিআইডির পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় এই মামলা করা হয়। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এ তথ্য জানিয়েছে।
মামলার বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত খায়রুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহানের নামে ‘মেঘমালা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ ও তাঁদের ছেলে মোরসালিন ইসলামের নামে ‘মেঘমালা এস্টেট লিমিটেড’ নামের দুটি ‘কাগুজে নামসর্বস্ব কোম্পানি বানিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে’ ২০১২ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ঋণের অর্থের প্রকৃত উৎস ‘আড়াল করতে’ তা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও লেয়ারিং করা হয় বলেও অভিযোগ সিআইডির।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঋণের টাকা মোরসালিনের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে জমা করা হয়। পরে সেখান থেকে ৪০ কোটি টাকা ডেবিট করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বনশ্রী শাখার একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ওই ঋণের অর্থ দিয়ে মোরসালিন ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্নে স্পনসর শেয়ার কেনেন। এভাবে আসামিরা ঋণের ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেন এবং সেই অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেন।
এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গুলশান থানায় করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব খায়রুল ইসলামকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। ওই মাসেই তাঁকে অবসরোত্তর ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর অক্টোবরে তাঁকে বিডার নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেয় সরকার। চাকরিজীবনে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস–১) দায়িত্বে ছিলেন খায়রুল ইসলাম।