হুতি বিদ্রোহী দমনে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনে হামলা শুরু হয়। এখনো দেশটিতে শান্তি ফেরেনি। ইয়েমেনে সৌদির নেতৃত্বে হামলায় দেড় লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দি আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদির নেতৃত্বে যে বিমান হামলা হয়েছে, তা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এই যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাসের মাথায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের লক্ষ্যে ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন (আইএমসিটিসি) নামে ওই জোটের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন এ জোটের সচিবালয় রিয়াদে অবস্থিত। বর্তমানে বাংলাদেশসহ ৪১টি দেশ এই জোটের সদস্য।

বাংলাদেশ শুরুতেই জোটে যোগ দিলেও এখন পর্যন্ত রিয়াদে সচিবালয়ে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। আইএমসিটিসি সচিবালয়ে বাংলাদেশের চারজন কর্মকর্তার কাজ করার কথা। এই কর্মকর্তাদের মধে৵ দুজন সামরিক কর্মকর্তা, একজন কূটনীতিক ও পুলিশের একজন কর্মকর্তা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ গত মার্চে বাংলাদেশ সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে আইএমসিটিসিতে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত ওই সফরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর অন্যতম ছিল এটি।

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ওই জোটের প্রধান। ওই জোটের সহায়তাকারী রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স রয়েছে। লেবাননসহ জোটের ২৭টি সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা আইএমসিটিসির রিয়াদের সচিবালয়ে কাজ করছেন। বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে যুক্ত হননি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গত মঙ্গলবার আইএমসিটিসির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজসভায় মিলিত হন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ওই বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে জোটে যোগ দিয়েছে। আইএমসিটিসির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জোটের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেছেন। পাশাপাশি জোটে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আইএমসিটিসির ওয়েবসাইটে মহাসচিবের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল আল-মোঘদি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সন্ত্রাসবাদ দমনের সব৴শেষ পরিস্থিতি এবং আইএমসিটিসির সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় মেজর জেনারেল আল-মোঘদি জোটের সদস্যদেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও সাফল্য রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদে পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল পাঠানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনে নিজেদের অভিজ্ঞতা সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে বিনিময়ের মাধ্যমে জোটের কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটের চারটি প্রধান লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসী সংগঠনের মতাদর্শের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি ইসলামের প্রকৃত ও সহনশীল মতাদর্শের প্রচার করা। সন্ত্রাসের অর্থায়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে সদস্যদেশগুলোকে সমন্বিতভাবে সামরিক ও ত্রাণসহায়তা দেওয়া।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন