সমাবেশের প্রধান বক্তা রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘সরকারি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের যে লড়াই, তার অংশ হিসেবে আজকের এই সমাবেশ থেকে আগামী ২২ অক্টোবর সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা গণ-অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এরপর আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছে উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকার জেলেদের ওপর সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে। ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে সন্ত্রাসীদের অবস্থান। জেলেপল্লির জেলেরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারের প্রতি আবেদন জানাই।’

চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র দুর্জয় বড়ুয়ার নিখোঁজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘পুলিশের কাছে অনুরোধ করি, অনতিবিলম্বে দুর্জয় বড়ুয়ার সন্ধান দেওয়ার জন্য। নয়তো আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

সারা দেশে সংখ্যালঘু শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে রানা দাশগুপ্তর বলেন, ‘একইভাবে চন্দনাইশের খান দিঘিরপাড় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলটন কান্তি বিশ্বাসকে স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা হয়রানি করে চলেছেন। অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় ঐক্য পরিষদের নেতা জিনোবোধী ভিক্ষু বলেন, ‘ভোটের সময় সংখ্যালঘুদের দরকার হয়। ভোট গেলে আর আমাদের দরকার হয় না। আমরা ভিক্ষা চাই না। আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

পরিষদের নগর সভাপতি পরিমল চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পরিষদ নেতা ইন্দু নন্দন দত্ত, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল পালিত, তাপস হোড়, ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী, নিতাই প্রসাদ ঘোষ, প্রদীপ কুমার চৌধুরী, আদিবাসী ফোরামের সভাপতি অনিল বিকাশ চাকমা, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, নীলু নাগ প্রমুখ।

সমাবেশে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের আন্দরকিল্লা মোড় হয়ে লালদীঘিরপাড়ে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন