সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে সাড়া নেই, তিন দেশের সঙ্গে বৈঠকে নতুন উদ্যোগ
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে তেমন সাড়া নেই। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেষ হওয়া দরপত্রে অংশ নেয়নি কোনো কোম্পানি। একই পরিণতি এড়াতে চায় বর্তমান সরকার। তাই সমুদ্রে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ আনতে তৎপর জ্বালানি বিভাগ। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে মতামত নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দরপত্র জমার সময় চার মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, গত ২৯, ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর মোট ১০টি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক হয়েছে লন্ডনে। চলমান দরপত্র ও উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) নিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে। নতুন পিএসসি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। বিনিয়োগের ঝুঁকি ও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করে দরপত্রে অংশ নিতে চায় তারা।
অন্তর্বর্তী সরকার এসে দরপত্র জমার সময় তিন মাস বাড়িয়ে দেয়। তবে সাতটি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনলেও জমা দেয়নি।
জ্বালানি বিভাগের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল লন্ডনের বৈঠকগুলোয় অংশ নেয়। সিঙ্গাপুরেও ছয়টি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানির মতামত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। তাই সমুদ্রে গ্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে যত রকমের তথ্য আছে, তা বহুজাতিক কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে এসব তথ্য যাচাই–বাছাই করে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বহুজাতিক কোম্পানি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাই বিনিয়োগের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক এখন। এ কারণে দরপত্রের সময় বাড়ানো হয়েছে।
পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্রে বিভিন্ন কোম্পানি অনুসন্ধান কাজের অংশ হিসেবে জরিপ করে তথ্য দিয়েছে। এমন ছয়টি আলাদা জরিপ তথ্য আছে। এর প্রতিটির দাম ২০২৪ সালের দরপত্রে ১০ লাখ ডলার ধরা হয়েছিল। এবারের চলমান দরপত্রে দাম ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। এখন চারটি বিনা পয়সায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। আর বাকি ছয়টির দাম কমিয়ে প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার ধরা হয়েছে। এতে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রহ বাড়বে। তারা তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লক আছে। ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয় দরপত্র জমা দিতে। এখন এটি বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় কয়েক বছর ধরে দেশে জ্বালানিসংকট বাড়ছে। সমুদ্রসীমা জয়ের প্রায় দেড় দশক পরও গ্যাস আবিষ্কার করা যায়নি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। মাঝে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এক যুগে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করেনি। ২০২৪ সালের মার্চে দরপত্র আহ্বান করলেও আগস্টে ওই সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এসে দরপত্র জমার সময় তিন মাস বাড়িয়ে দেয়। তবে সাতটি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনলেও জমা দেয়নি।
সব মিলে বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগে ঝুঁকির তুলনায় প্রাপ্তি হিসাব করবে বহুজাতিক কোম্পানি। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাই দরপত্রে কতটা অংশগ্রহণ দেখা যাবে, তা বলা কঠিন।ম তামিম, জ্বালানিবিশেষজ্ঞ
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। গত মে মাসে সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লক আছে। ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয় দরপত্র জমা দিতে। এখন এটি বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দরপত্র নথি কিনেছে তিনটি কোম্পানি। এদের একটি তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি কিনেছে গত ২৩ জুলাই। আরেকটি চীনের সিনুক ইন্টারন্যাশনাল কিনেছে ১৭ আগস্ট। সর্বশেষ গত মাসে কিনেছে চীনের আরেক কোম্পানি সিনোপ্যাক। এর আগে তারা কেউ বঙ্গোপসাগরের তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে অংশ নেয়নি।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, লন্ডনে যাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মার্ফি ওয়েল, ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস, কুয়েতের কেইউএফপিইসি, অস্ট্রেলিয়ার জিও এক্সপ্লোরেশন, সিঙ্গাপুরের ইউনিয়ন এনার্জি গ্রুপ, কানাডার ভেলিউরা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৈঠক হয় ইতালির ইএনআই, মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিল, যুক্তরাজ্যের বিপির সঙ্গে। আর সর্বশেষ ১ অক্টোবর বৈঠক হয় আরেক শীর্ষ কোম্পানি যুক্তরাজ্যের শেলের সঙ্গে। এসব কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা সমুদ্রের বিভিন্ন জরিপের তথ্য উন্মুক্ত করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তথ্য বিশ্লেষণে আরও সময় চেয়েছে। সিঙ্গাপুরে এশিয়ার ছয়টি কোম্পানিও বৈঠকে একই রকম মতামত দিয়েছেন। আগামী বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে দেশটির শীর্ষ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি দেশের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এসব দেশও বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ করে। বাজারের চাহিদা বুঝেই সময় বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুসারে তথ্য উন্মুক্ত করে সহজলভ্য করা হয়েছে। এখন দরপত্রে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমুদ্রে প্রথম দরপত্র ’৭৪ সালে
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, ১৯৭৩ সালে সমুদ্রসীমা আইন জারি করে তৎকালীন মুজিব সরকার। এরপর ১৯৭৩ সালে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ছয়টি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে পিএসসি সই হয়। এর মধ্যে কুতুবদিয়ায় গ্যাস পাওয়ার কথা জানায় তৎকালীন ইউনিয়ন গ্যাস কোম্পানি (পরে ইউনোকল নামকরণ)। তবে খন্দকার মোশতাক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সব কোম্পানি দেশ ছেড়ে চলে যায়। এরপর ১৯৮৮ সালে দরপত্র ডাকা হলেও কেউ অংশ নেয়নি। পিএসসি-১৯৯৪–এর আওতায় ব্রিটিশ কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জির সঙ্গে চুক্তি হয়। তারা সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৮ সালে। এরপর ২০১৩ পর্যন্ত এখান থেকে গ্যাস উৎপাদন করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুত অবশিষ্ট না থাকায় এরপর এটি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও মাঝে ২০০৭ সালে কেয়ার্ন থেকে শেয়ার কিনে নিয়ে পরিচালনার দায়িত্বে আসে অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস।
পিএসসি-২০০৮–এর আওতায় চুক্তি করে ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে কাজ শুরু করে মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপস। গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৫ সালে তারা চলে যায়।
বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি দেশের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এসব দেশও বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ করে। বাজারের চাহিদা বুঝেই সময় বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুসারে তথ্য উন্মুক্ত করে সহজলভ্য করা হয়েছে। এখন দরপত্রে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
পিএসসি-২০১২–এর অধীনে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি সান্তোস এবং আরও দুটি ব্লকে ভারতের ওএনজিসি আসে ২০১৪ সালে। এরপর ২০২০ সালে এ অঞ্চলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলে চলে যায় সান্তোস। ২০১৭ সালে বিশেষ পিএসসির আওতায় আসে কোরীয় কোম্পানি পস্কো দাইয়ু। পস্কোও চলে যায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি তুলে। সর্বশেষ ওএনজিসি চলে যায় গত বছর। তারা সমুদ্রে একটি কূপ খন করলেও গ্যাস পায়নি। এর আগে ২০১৯ সালে পিএসসির খসড়া চূড়ান্ত করা হলেও বিদেশি কোম্পানির তেমন আগ্রহ না থাকায় দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুজিব সরকারের সময় বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট না রাখার বিধান ছিল। তবে পরে কোনো দরপত্রের সময়ই এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। বিভিন্ন সময় বিদেশি কোম্পানির হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
বিইআরসির সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ইলাহী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ৪৬টি বিদেশি কোম্পানি অংশ নিয়েছিল। তখন সব তথ্য বিনা পয়সায় উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালেও ১৭টি কোম্পানি এসেছিল। এরপর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বেড়েছে। তিন দিনের কাজ তিন মাসে হয় না। এতে আগ্রহ কমে যায়।
আগের কিছু সুবিধা এবারও থাকছে। কর ও শুল্ক অব্যাহতি থাকছে আমদানিতে। ঠিকাদারের হয়ে আয়কর দেবে পেট্রোবাংলা। গ্যাস পেট্রোবাংলা না কিনলে দেশের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারবে ঠিকাদার। দেশে চাহিদা না থাকলে রপ্তানি করতে পারবে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে যেতে পারবে যেকোনো পক্ষ।
বিনিয়োগঝুঁকি বিশ্লেষণ করছে কোম্পানি
পিএসসি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পিএসসি-২০১৯ অনুসারে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম রাখা হয়েছিল গভীর সমুদ্রের জন্য সোয়া ৭ মার্কিন ডলার আর অগভীর সমুদ্রের জন্য সাড়ে ৫ ডলার। ২০২৩ সালের পিএসসিতে কোনো স্থির দাম নির্ধারণ না করে, গভীর ও অগভীর দুই ক্ষেত্রেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) দামের ১০ শতাংশ ধরা হয়। এবার পিএসসি-২০২৬–এ এটি বাড়িয়ে গভীর সমুদ্রে ১১ শতাংশ ও অগভীর সমুদ্রে সাড়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে-বাড়লে আনুপাতিক হারে গ্যাসের দামও কমবে-বাড়বে। প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার হলে গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম হবে ১১ ডলার। তবে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য ব্রেন্টের দামের ক্ষেত্রে এবার উচ্চসীমা ও নিম্নসীমা নির্ধারণ করা হবে, যাতে গ্যাসের দাম খুব বেশি বাড়তে বা কমতে না পারে।
চুক্তি অনুসারে সমুদ্র থেকে গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন করবে ঠিকাদার কোম্পানি। এ পাইপলাইনের জন্য গ্যাসের মজুত, সরবরাহ, খরচ মিলে একটি ট্যারিফ পাবে ঠিকাদার সংস্থা। গত পিএসসিতে এ সুবিধা ছিল না। চুক্তিতে ঠিকাদার হিসেবে আসা বহুজাতিক কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার মধ্যকার মুনাফা ভাগাভাগির সূত্রও বদল করা হয়েছে। অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ অব্যাহত রাখতে চাইলে তার মুনাফার অংশ ১ থেকে ২ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে শ্রম আইন সংশোধন করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিদেশি কোম্পানিকে একটি সুবিধা দিয়ে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। শ্রমিক তহবিলে কোম্পানির মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়েছে। এটিও আগ্রহ বাড়াবে।
আগের কিছু সুবিধা এবারও থাকছে। কর ও শুল্ক অব্যাহতি থাকছে আমদানিতে। ঠিকাদারের হয়ে আয়কর দেবে পেট্রোবাংলা। গ্যাস পেট্রোবাংলা না কিনলে দেশের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারবে ঠিকাদার। দেশে চাহিদা না থাকলে রপ্তানি করতে পারবে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে যেতে পারবে যেকোনো পক্ষ। অগভীর সমুদ্রে ১০ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স)।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন কর্মকর্তা বলেন, লন্ডনের পর এশিয়ার কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা হয়েছে। পিএসসি নিয়ে কোনো কোম্পানির আপত্তি নেই। এটি এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সেরা পিএসসি। সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রায় এলএনজির সমান দাম ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক সরকার থাকায় তাদের আস্থারও ঘাটতি নেই। তবে এসব সুবিধা তারা পাবে, গ্যাস পেলে। গ্যাস না পেলে তাদের পুরো বিনিয়োগ লোকসান হবে। সমুদ্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাই সব সময়ই বাড়তি সময় নেয় বহুজাতিক কোম্পানি। এ ছাড়া আবারও দরপত্র জমা না পড়লে তা দেশের গ্যাস খাতের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর হবে। তাই সময় বাড়িয়ে অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিবছর নিয়মিত দরপত্র আহ্বান করে যেতে হবে। এতে কোনো কোম্পানি একবার না আসতে পারলেও পরেরবার আসবে। আগের মতো লম্বা বিরতি দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা ঠিক হবে না।
যোগাযোগ করা হলে জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এখন গ্যাসের দাম বাড়তি হওয়ায় আগ্রহ আছে। ভবিষ্যৎ বাজারও চিন্তা করবে বহুজাতিক কোম্পানি। অন্য দেশেও কী ধরনের বিনিয়োগ প্রস্তাব আছে, তা দেখবে। সব মিলে বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগে ঝুঁকির তুলনায় প্রাপ্তি হিসাব করবে তারা। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাই দরপত্রে কতটা অংশগ্রহণ দেখা যাবে, তা বলা কঠিন।
