পার্কের ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যারিস্টার হতে হয় না: আনু মুহাম্মদ

বিশিষ্ট নাগরিকদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ
ছবি: প্রথম আলো

পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের ভেতরে খাবারের দোকান স্থাপনের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাতে সিটি করপোরেশন সাড়া না দেওয়ায় ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার পুরান ঢাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘এখানে কোনো খাবারের দোকান থাকবে না। এই অবৈধ স্থাপনা সরাতে হবে। বাহাদুর শাহ পার্কের ঐতিহ্য মানুষকে জানাতে হবে। পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ছোট ঐতিহাসিক জায়গা রক্ষা করা প্রয়োজন। আর এর জন্য ব্যারিস্টার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। যেকোনো বিবেকবান মানুষ জানে জায়গাটি কীভাবে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমাদের মেয়র ব্যারিস্টার তা বোঝে না।’

ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ ও পার্কের ইতিহাস ঐতিহ্য জানানোর ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘পার্কটি রক্ষায় আমাদের তিনটি গুরুত্ব রয়েছে। তা হচ্ছে সামাজিক, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক। হাজার হাজার মানুষ শুধু শ্বাস নিতে এই পার্কে আসেন। এখন ঢাকা সবচেয়ে বিশ্বের প্রধান দূষিত শহর। আর এই পরিণতি হয়েছে শুধু দখল আর দূষণের কারণে। ইতিহাস ঠিকভাবে লিখতে হলে আদি ঢাকার পুরান ঢাকাকে লিখতে হবে। কিন্তু এখন পুরান ঢাকার গ্রন্থাগার, সিনেমা হলগুলো সব দখলে। এই ঐতিহ্য রক্ষা না করার কারণে আমরা কীভাবে ভবিষ্যৎ বানাব।’

আরও পড়ুন

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। তিনি এই জায়গায় খাবারের দোকান বরাদ্দ দিয়ে যে অপরাধ করেছেন, তা থেকে বের হয়ে আসতে। পার্কটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রাখা আপনার দায়িত্ব। এটা কোনো দয়া বা মায়া নয়।

আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সিটি করপোরেশনের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়া। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার জায়গা করে না দেওয়া। পার্কের ভেতর থেকে খাবারের দোকান সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে পাবলিক টয়লেট সরিয়ে ফেলুন। এর ঐতিহ্য রক্ষায় তথ্যভান্ডার গড়ে তুলুন।’

আরও পড়ুন

পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব আখতারুজ্জামান বলেন, আশপাশে এত নামীদামি রেস্তোরাঁ থাকতে কোন হিসেবে পার্কে মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইজারা দেওয়া হয়, তা সবাই জানে। মেয়র মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি।