আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিচালনা—সবকিছুর সমন্বয় থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। তবে পরিপত্রটি আজ বুধবার প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পরিপত্রে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড নিয়োগ করা এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’–এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রথম পর্বে চলমান যাঁরা মোতায়েন রয়েছেন, তাঁরা বলবৎ থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা-উপজেলা ও থানাভিত্তিক কাজ করবে। কোস্টগার্ড দায়িত্বে থাকবে উপকূলীয় এলাকায়।
সব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করবে এবং তাঁর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিম পুনর্বিন্যাস করা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল থাকবে
আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করার কথা জানিয়ে পরিপত্রে বলা হয়, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং র্যাবের সমন্বয় স্থাপন করতে হবে। এ সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
পরিপত্রে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য জরুরি পরিষেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। ওই টিম নির্বাচনসংক্রান্তু প্রাপ্ত অভিযোগ/তথ্যের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এলাকাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পাঠাবে।
জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ে স্থাপিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা বিবেচনায় পুলিশ ও আনসার ভিডিপির পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাব মোতায়েন করা হবে।
এ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচনকালীন জেলা ও উপজেলায় গঠিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাভিত্তিক অভিযান এবং চেক পয়েন্ট (তল্লাশিচৌকি) অভিযান পরিচালনা করবে।