বিটিআরসির পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনকে অব্যবহৃত সিম বিক্রির এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি গত জুনের শেষ দিকে গ্রামীণফোনের সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে সিম বিক্রি করতে পারেনি।

নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামীণফোন তাদের কাছে থাকা অব্যবহৃত সিম বিক্রির সুযোগ পাবে।’ আর নতুন সিম বিক্রির সুযোগ দেওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেবার মান উন্নত হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

গ্রাহকসংখ্যা, রাজস্ব ও মুনাফার দিক থেকে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক অপারেটর গ্রামীণফোন। গত জুন মাসে যখন তাদের সিম বিক্রিতে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তখন বলা হয়েছিল সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও গ্রামীণফোন সব সময় বলে আসছে তারা সেবার মানের ক্ষেত্রে বিটিআরসির নির্দেশিত মান রক্ষা করে চলছে।

বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, দেশে গত জুলাই মাস শেষে মুঠোফোনের সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৪০ লাখের বেশি। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহকসংখ্যা ৮ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার, যা আগের মাসের চেয়ে প্রায় ৭ লাখ কম। দেখা যাচ্ছে, সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার পর গ্রামীণফোনের গ্রাহক কমেছে।

গ্রামীণফোনের গ্রাহক কমলেও জুলাই মাসে রবি আজিয়াটা ও বাংলালিংকের গ্রাহক বেড়েছে। ২ লাখ ৪০ হাজার বেড়ে রবির গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার। আর বাংলালিংকের দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার, যা আগের মাসের চেয়ে ১ লাখ ১০ হাজার বেশি।

বিটিআরসির নির্দেশিকা বলছে, টানা ১৫ মাস অব্যবহৃত থাকা সিম সংশ্লিষ্ট অপারেটর বিক্রি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিন মাসের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। সিমগুলোর তালিকা অপারেটরগুলো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সব মিলিয়ে টানা ১৮ মাস অব্যবহৃত থাকার পর বিক্রি করতে পারে অপারেটরগুলো।

অব্যবহৃত সিম বিক্রির সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের সিনিয়র ডিরেক্টর (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) হোসেন সাদাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমাদের কাছে অনেক দিন ধরে অব্যবহৃত যেসব নম্বর রয়েছে, তা বিক্রির পুনঃ অনুমোদন দেওয়ায় বিটিআরসিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন