গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ছাপচিত্রে নগরবাসী বর্মণ একাগ্র শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। স্মৃতির বিস্তার তাঁর শিল্পসৃষ্টির প্রেরণা। মত্স্যজীবীদের সংগ্রাম, বেদনা, আনন্দ আর উত্সব রয়েছে তাঁর এবারের ছবিগুলোর পটজুড়ে।

স্মৃতিচারণা করে শমী কায়সার বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি অনেক শিল্পী-সাহিত্যিকের সান্নিধ্য পেয়েছি, যা আমাকে পরবর্তী জীবনে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। নিজেকে দিয়েই জানি, রংতুলি আর সংগীতের ভেতর বড় হতে পারলে মানুষ সংস্কৃতিমনস্ক হয়ে ওঠে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

গাউসুল আলম বলেন, ছবি আঁকা, বই পড়া আমাদের কল্পনার জগৎকে বড় করে। শিল্পচর্চার মধ্য দিয়েই আমরা যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। নগরবাসীর ছবির প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরবাসী তাঁর ছবিতে সহজ জীবনের কথা বলেছেন, সাধারণত এই ছবি সহজে মানুষের চোখে পড়বে না।

বাংলাদেশের চিত্রকলায় স্বাতন্ত্র্য নিয়ে হাজির হয়েছেন নগরবাসী বর্মণ। ক্যানভাসে তিনি ফুটিয়ে তোলেন স্মৃতির আখ্যান। নানা জ্যামিতিক ফর্মে তাঁর আঁকা নৌকা, মাছ, তেলের কুপি যেন চিন্তার চিত্রায়ণ। সেই সঙ্গে জীবনসংগ্রামী মানুষের বেদনা ও উত্সব ফুটে ওঠে অবয়বের ভঙ্গিতে। স্মৃতি ও শৈলীর অনবদ্য মেলবন্ধনে ক্যানভাস হয়ে ওঠে মৎস্যজীবীদের গাথা।  

নগরবাসী বর্মণ বলেন, ‘ছবিতে আমি মানুষের আনন্দ-বেদনার কথাই বলতে চেয়েছি। মানুষ সাধারণভাবে বাঁচতে চায়। এটুকুও সবাই পারে না। ঘরে খাবার থাকে না, বেঁচে থাকার সামান্য উপকরণ থাকে না। সেই না-থাকা জীবনেও মানুষ আনন্দ খুঁজে নিতে চায়। ক্যানভাসে আমি সেসব কথাই বলতে চাই।’ স্মৃতির ভাগ দিতে গিয়ে প্রদর্শনীতে আসা অতিথিদের নগরবাসী বলেন, ‘আমি জেলে পরিবারের সন্তান। জেলে পরিবারের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না মিশে আছে আমার শৈশবের সঙ্গে। সেগুলো আমাকে আলোড়িত করে। শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে সেসব ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলাই আমার আনন্দ।’  

প্রদর্শনীতে রয়েছে ছাপচিত্র, অঙ্কন, জলরং, অ্যাক্রিলিক, চারকোল, এচিং, উডকাট, লিনোকাটের ৫০টি শিল্পকর্ম। প্রদর্শনী ঘুরে আসা যাবে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গ্যালারি কায়া খোলা থাকে প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।