বেসরকারি সংগঠন সোসাইটি ফর মিডিয়া অ্যান্ড সুইটেবল হিউম্যান–কমিউনিকেশন টেকনিকস (সমষ্টি) ডুবে মৃত্যুর পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করে। সমষ্টির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি জুলাই মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৮০৫ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ৫ বছরের নিচের বয়সী থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়সীদের মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ২৮৭।

সমষ্টির পরিচালক মীর মাসরুর জামান প্রথম আলোকে বলেন, ডুবে মৃত্যু নিয়ে পত্রিকায় যত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, প্রকৃত ঘটনা এর চেয়ে বেশি। একাধিক গবেষণাতেও এ চিত্র পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালে করা বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে অনুযায়ী, দেশে ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর (আঘাতজনিত) ৩৭ শতাংশই হয় পানিতে ডুবে। সে হিসাবে বছরে সাড়ে ১৪ হাজার শিশু ডুবে মারা যায়।

ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি তৎপরতা একেবারেই কম ছিল। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিশুদের সাঁতার শেখানোর দুটি প্রকল্প শেষ হয় গত বছরের জুন মাসে। তবে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা সমালোচনা আছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ডুবে মৃত্যুর প্রসঙ্গটি তুলে ধরে বাংলাদেশ। ২৮ এপ্রিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫ জুলাইকে দিবস ঘোষণা করার পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর জন্য ১০ দফা সুপারিশ করা হয়।

ডুবে মৃত্যু রোধে বাংলাদেশে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। সংস্থার কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া ম্যানেজার সরওয়ার ই আলম প্রথম আলোকে বলেন, বছর পার হয়ে গেলেও সরকার এখনো একটি কৌশলপত্র করতে পারেনি। এটি দ্রুত হবে, তার কোনো লক্ষণও নেই। জাতিসংঘের তৎপরতার পেছনে বাংলাদেশের ভূমিকা মুখ্য ছিল। কিন্তু ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে জাতীয়ভাবে কর্মসূচির বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পক্ষ থেকে একটি কৌশলপত্র তৈরির কাজ চলছে বলে জানান লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ রোবেদ আমিন।

ডুবে মৃত্যু রোধে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ, পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে রোবেদ আমিনের বক্তব্য, ‘আগে তো কৌশলপত্র হতে হবে। এরপর কোন মন্ত্রণালয় এর নেতৃত্ব দেবে বা কী কী পরিকল্পনা হবে, তা নির্ধারিত হবে।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষায়’ ২৭২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে। যদিও মন্ত্রণালয় প্রকল্পটিকে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের প্রকল্প বলতে নারাজ। শিশুদের জন্য যত্নকেন্দ্র চালু, ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং মা–বাবার সচেতনতা বৃদ্ধি এই তিন বিষয় প্রকল্পে আছে।

পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সরকারি উদ্যোগকে হতাশাজনক বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন