প্রবাসী কার্ডে রেমিট্যান্সে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে: নুরুল হক

রামরুর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। ১৩ অক্টোবরছবি: প্রথম আলো

প্রবাসী কার্ডধারীদের বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্সে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে বৈধ পথে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রবাসীরা ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা পান। প্রবাসী কার্ড চালুর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম কয়েকটি দেশে চলছে। এ কার্ডে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে, আর্থিক লেনদেনও করা যাবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের একটি অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মো. নুরুল হক বলেন, দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও দক্ষতা বিবেচনায় গ্রেডিং করা হলে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৫০০টি এজেন্সি টিকে থাকতে পারে। এতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করা সহজ হবে।

অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ চার থেকে পাঁচটি দেশে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। কার্ডটির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে আর্থিক লেনদেন ও অর্থ পরিশোধের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও ছাড় পাওয়ার সুবিধাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রবাসীদের সমস্যার কথা তুলে ধরে নুরুল হক বলেন, পাসপোর্ট করতে গিয়ে দালালের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত খরচ, বিদেশে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়া এবং বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েন প্রবাসীরা। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

জমিজমা–সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সাত দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় চলমান ‘রেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ করা হচ্ছে।

দক্ষ কর্মী তৈরির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি ও কাজের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের চাহিদা ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী হালনাগাদ করা জরুরি।

নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, প্রবাসীদের সেবা সহজ করা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।