অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিদেশে কর্মী যাওয়া বাড়লেও প্রবাসী আয় কমেছে। এর অন্যতম কারণ, ব্যাংক ও খোলাবাজারের মধ্যে ডলারের বিনিময় হারে তফাত। পাঁচ টাকা বেশি পেলে একজন গরিব প্রবাসী হুন্ডির মাধ্যমে কেন লেনদেন করবেন না? দেশপ্রেম কি শুধু গরিবদের জন্য?

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, যারা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা নিয়েছে, তাদের টাকা ফেরত আনার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। আর প্রবাসীরা হুন্ডি করে দেশে টাকা পাঠালে অপরাধী হবে, এটা তো কোনো কথা হতে পারে না। সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রবাসীরা ছাড়া অর্থনীতি চলবে না, এটা অনুধাবন করতে পারলে এ খাতের সমস্যা দূর হবে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম বলেন, বিগত ১৪ বছরে ৭৮ লাখ কর্মী বিদেশে গেছেন। ২১৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে দেশে। সুশৃঙ্খলভাবে করা গেলে আরও বেশি কর্মী পাঠানো যেত। ২০ লাখ কর্মী হয়তো যেতে চেয়েও পারেননি। সবাই মিলে অভিবাসন খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গিয়ে বিপদে পড়ে এই অ্যাপ থেকে সহায়তা নিয়েছেন টাঙ্গাইলের মো. সেলিম হোসেন। তিনি বলেন, হাউসকিপিং ভিসা নিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি দুবাই যান। তাঁকে অন্য কাজে যুক্ত করা হয়। আট দিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোম্পানি কোনো সহায়তা করেনি। দুই সপ্তাহ প্রায় না খেয়ে ছিলেন। পানিশূন্যতা দেখা দেয়, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত চলে আসে। এরপর সেফস্টেপ অ্যাপের মাধ্যমে সহায়তা চান তিনি। সেখান থেকে তাঁকে সহায়তা দেওয়া হয় এবং উদ্ধার করে ৯ নভেম্বর তাঁকে দেশে নিয়ে আসা হয়।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত বলেন, বিভ্রান্ত মানুষকে ধোঁকা থেকে বাঁচার দুয়ার খুলে দিয়েছে সেফস্টেপ অ্যাপ। অধিকাংশ নারীরা লেখাপড়া জানেন না। ছবি ও ভিডিও দিয়ে তাঁদের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহারবান্ধব করতে হবে।

অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক বাংলাদেশ সংসদীয় ককাসের সাধারণ সম্পাদক মাহজাবিন খালেদ বলেন, প্রচার করে এই অ্যাপের বিষয়টি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দিয়ে রামরুর নির্বাহী পরিচালক সি আর আবরার বলেন, দেশে কর্মসংস্থান খুঁজে না পেয়েই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন কর্মীরা। যাওয়ার আগে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়ছেন তাঁরা। আবার দেশে ফিরেও সমস্যায় পড়ছেন। এই কর্মীদের সহায়তা করতেই সবার মতামত নিয়ে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম প্রধান লিজবেথ জোনেভেল্ড বলেন, শ্রম অভিবাসনের নামে মানব পাচারের শঙ্কা থাকে। এটা প্রতিরোধের জন্য আগে থেকে তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ কারণেই এই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। মানুষ যাতে জেনেশুনে বিদেশ যেতে পারে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, বায়রার সদস্যদের মাধ্যমে অ্যাপটি বিদেশগামী কর্মীদের কাছে পৌঁছানো যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্টের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মল্লিক আনোয়ার হোসেন। অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লরেন পার্নেল। সেফস্টেপ নিয়ে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন রামরুর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নুসরাত মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, জেনেবুঝে, সঠিক সিদ্ধান্ত ও যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে সেফস্টেপ তৈরির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। ইতিমধ্যে এর চারটি সংস্করণ চালু হয়েছে। ১০ হাজার কর্মী এটি ব্যবহার করছেন। প্রতিনিয়ত কর্মীর চাহিদা বুঝে অ্যাপে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এই অ্যাপে বিদেশে গিয়ে বেতন কত হবে, যেতে কত খরচ হবে, ঋণ ও সুদ থাকলে তা কত দাঁড়াবে, কত টাকা বাড়িতে পাঠানো যাবে এবং কত টাকা সঞ্চয় করা যাবে—এসব হিসাব করতে একটি ক্যালকুলেটর আছে। যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নিতে কী কী কাগজপত্র ও অনুমতি লাগবে, তা এখান থেকে জানা যাবে। বিপদে পড়লেও এখান থেকে সহায়তা নিতে পারবেন কর্মীরা।