সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল বলতে পারব না, উদ্ধারের চেষ্টা করি নাই: ইকবাল করিম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালফাইল ছবি: প্রথম আলো

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া জেরায় বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তা বলতে পারব না। যারা গুম হয়েছিল, তাদের কাউকে আমি উদ্ধারের চেষ্টা করি নাই। কারণ, এটা আমার দায়িত্বাধীন ছিল না এবং আমি জানতাম না, কে কখন কোথায় গুম হয়েছে।’

জেরায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘কে বা কারা গুম হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) কোনো তথ্য দিতে পারে নাই। তবে গুম হচ্ছে মর্মে তারা আমাকে জানিয়েছে।’

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আজ রোববার চতুর্থ দিনের মতো ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করা হয়। তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি শেষ করার পর তাঁকে প্রথম দফায় জেরা করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন

এই মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

আজ আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনির জেরায় সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে আমি অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ মর্মে দালিলিক কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করি নাই। দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। গুম প্রতিরোধের জন্য সুপার চিফ বা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চিঠি পাঠাই নাই বা তাঁকে লিখিতভাবে জানাই নাই।’

আরও পড়ুন

ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘যে কনিষ্ঠ অফিসার র‍্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন, তাঁর নাম স্মরণ নেই। কত তারিখ তিনি আমার কাছে এসেছিলেন, স্মরণ নেই। এই কনিষ্ঠ অফিসার দুজনকে হত্যা করেছেন মর্মে আমার কাছে স্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করি নাই। এই মর্মে কোনো সাক্ষী বা আলামত ছিল না। তাঁর এরূপ স্বীকারোক্তি আমি রেকর্ড করি নাই। উনি প্রতিটি হত্যার জন্য প্রাপ্ত যে ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন, সে জন্য তাঁকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয় নাই।’