প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি বিরোধী দলের, ইতিবাচক সরকারি দলও

জাতীয় সংসদ অধিবেশনফাইল ছবি

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেসব সমাধানের জন্য সংসদ সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল। সরকারি দলও ইতিবাচক মনোভাব জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের টাস্কফোর্স গঠন করা যায়।

বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধিতে আনা একটি প্রস্তাবের (সাধারণ) ওপর আলোচনায় এ দাবি উঠে আসে। সংসদের বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ প্রস্তাব দেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স–যোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান, তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থের বিষয়ে এই আলোচনা।

আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, সরকারি দলের সংসদ সদস্য বরকতউল্লা ও মনিরুল হক চৌধুরী, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, মাহবুবুল আলম ও আবদুল হান্নান মাসউদ অংশ নেন।

সাধারণত এ বিধিতে আনা প্রস্তাব আলোচনা শেষে ভোটাভুটিতে দেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী দলের নেতার আনা প্রস্তাবে শুধু আলোচনা চাওয়া হয়েছে। তাই প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে দেওয়া হয়নি বলে সংসদকে জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা বেশি, সেখানে এ টাস্কফোর্স গিয়ে প্রবাসী কর্মী ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনতে পারে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য আর্থিক রেমিট্যান্স যেমন জরুরি, তেমনি দরকার ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্সও।’

বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা আরও বলেন, তাঁরা টাকা চান না, তাঁরা সম্মান ও হস্তক্ষেপমুক্ত কাজ করার পরিবেশ চান। তাঁরা দেশে এলে, দেশ আরও ভালো চলবে।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে এমআরপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিল না থাকার কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। আকার-ইকার, নামের সামান্য পার্থক্য কিংবা বয়সের অমিলের কারণে অনেকের ই-পাসপোর্ট হচ্ছে না। এতে বহু প্রবাসী বিদেশে অবৈধ হয়ে পড়ছেন বা অবৈধ হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। প্রবাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দলের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের নেতার প্রস্তাবের একটি বিকল্প হতে পারে, সেটা হলো প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি দ্রুত গঠন করে অনেক বিষয় কমিটিতে আলোচনা করে সমাধান করা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের বিমানবন্দরসহ সব জায়াগায় যথাযথ সম্মান ও অগ্রাধিকার যাতে দেওয়া হয়, সে জন্য স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রবাসীকল্যাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় মিলে একটা ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর নির্ধারিত হয়েছে। মালয়েশিয়াকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্যই।

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি বলেন, দূতাবাসে যে ধরনের ‘অ্যাপ্রোচ’ দরকার, সেটা অনেক ক্ষেত্রে হচ্ছে না।

উচ্চপর্যায়ের সফর হলে কিছু দরজা খুলবে—এমন মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার একবার খোলে, আবার বন্ধ হয়। এখন বন্ধ আছে। সংসদ সদস্যরা বলেছেন, এখানে যেন সিন্ডিকেট না হয়। প্রধানমন্ত্রীও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের বদনাম করা যাবে না।