নির্বাচন ঘিরে নারীর প্রতি সহিংসতায় মহিলা পরিষদের ক্ষোভ, জড়িতদের শাস্তি দাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাজশাহীতে এক স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রের সামনে হেনস্তা ও মারধর করা হয়েছে। ভোলার চরফ্যাশন থানা এলাকায় সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার রাজশাহীর ওই নারী প্রার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভোলার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এ ছাড়া সিলেট, কুমিল্লা, নরসিংদী, ফেনী, গাজীপুর, নাটোর, ঝালকাঠি, নড়াইল, পাবনা, বগুড়া, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মহিলা পরিষদ বলছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, যা খুবই উদ্বেগজনক। একজন নারী প্রার্থীর প্রচার ও ভোটে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রে মারধরের ঘটনা নারীদের অবস্থান, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার সুরক্ষা অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন হামলা নারীর প্রতি সহিংসতার পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, যা অগ্রহণযোগ্য।

ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মহিলা পরিষদ।