দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি: সুজন সম্পাদক
নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, ‘ওয়াচ ডগ’-এর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজমুদার। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
আজ রোববার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদীঘিরপার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বদিউল আলম মজুমদার। ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’ শীর্ষক স্লোগানে এ সংলাপের আয়োজন করে সুজনের সিলেট জেলা কমিটি।
সংলাপে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।
সুজনের সম্পাদকের মতে, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, টাকার অশুভ প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণকে চিহ্নিত করেছেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে দলীয় সরকারের অধীন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ জন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিভাগীয় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সুজনের জেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার। সুজনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বিভাগীয় সংলাপে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মতামত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন।
সংলাপে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সুজনের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।