প্রকল্প সূত্র জানায়, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৯৩ শতাংশ। টানেলের দুটি সুড়ঙ্গ বা টিউবের খননকাজ আগেই শেষ হয়েছে। এই দুই সুড়ঙ্গ তিনটি সংযোগপথের (ক্রস প্যাসেজ) মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। এগুলোর খননকাজও সম্প্রতি শেষ হয়েছে। দুই সুড়ঙ্গের ভেতর রাস্তা এবং সংযোগ সড়ক ও গোলচত্বরের নির্মাণকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে টানেলের ভেতরে বাতি স্থাপন, অগ্নিপ্রতিরোধক বোর্ড বা প্লেট স্থাপন, ডেকোরেটিভ প্লেট স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা, পাম্প স্থাপন, টানেলের ভেতরে বাতাস চলাচলের জন্য ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রভৃতি।

টানেলের প্রকল্প পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী গতকাল রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘টানেলের পুরকৌশলের কাজ নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ইলেকট্রো মেকানিক্যাল (বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক) কাজ শেষ করতে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগবে। এসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে দেখা হবে। এসব বিষয়ে নিশ্চিত হলে বলতে পারব, টানেল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।’

ডিসেম্বরে চালু হওয়ার কথা থাকলেও কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজগুলো একটু জটিল প্রকৃতির। সুচারুভাবে করতে গেলে কিছু সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। আর তাড়াহুড়ো না করে গুণগত মান যাতে বজায় রাখা যায়, সে বিষয়েই তাঁরা নজর দিচ্ছেন।

তবে কবে নাগাদ টানেল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে কিংবা উদ্বোধনের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রকল্প পরিচালক। এটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।

দেশের প্রথম টানেলের নামকরণ করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চীনের চায়না কমিউনিকেশনস, কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসিএল) লিমিটেড।

গতকাল সকালে সরেজমিনে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা প্রান্তে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং টোল প্লাজার কাজ চলছে। শেষ হয়েছে সংযোগ সড়কের কাজ। এখন সড়কদ্বীপের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সড়কের নিরাপত্তাবেষ্টনী (রেলিং) দেওয়ার কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা।

প্রকল্প সূত্র জানায়, মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে টানেলের প্রতিটি সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। দুই সুড়ঙ্গে দুটি করে মোট চারটি লেন থাকবে। মূল টানেলের সঙ্গে পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকবে। আর আনোয়ারা প্রান্তে রয়েছে ৭২৭ মিটার দীর্ঘ উড়ালসড়ক। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ১৮ থেকে ৩৬ মিটার গভীরতায় সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ৩৫ ফুট প্রশস্ত ও ১৬ ফুট উচ্চতার। টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এদিকে মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধন করা হচ্ছে। মূলত ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হওয়ায় ডিপিপি সংশোধন করতে হচ্ছে বলে জানান প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৬৩ কোটি টাকা। মূলত ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে প্রকল্প সংশোধন করা হচ্ছে।