বাংলাদেশের সম্পর্ক দিল্লির সঙ্গে, রাজ্যের পটপরিবর্তনে প্রভাব পড়বে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতি বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে লবণচাষিদের জীবনমান উন্নয়নসংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে সরকার পরিবর্তন বা অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যেমন কাঁটাতার নির্মাণ তাদের নিজস্ব বিষয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন ও এর প্রভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির সত্যতা বা এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার মতো কোনো তথ্য স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তিনি জনগণকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
লবণশিল্প প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে লবণশিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্থানীয় লবণচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় বর্তমানে লবণচাষিদের উৎপাদন খরচ পর্যালোচনা করছে, যাতে তাঁরা তাঁদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান। দেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ভোজ্য লবণের চাহিদা নিরূপণ করে আমদানির যৌক্তিকতা যাচাই করা হচ্ছে। যথাযথ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে দেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে এবং চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।