গুম কমিশনের অন্তর্বর্তী দুটি প্রতিবেদনের বৈধতা নিয়ে রিট সরাসরি খারিজ
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত গুম কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন দুটি প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট গুমসংক্রান্ত ওই তদন্ত কমিশন গঠন করে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিশন একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর একটি এবং গত বছরের ৪ জুন আরেকটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করে।
এই দুই অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের বৈধতা নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা নাজনীন পারভীন স্বপ্না চলতি বছর রিটটি করেন।
আবেদনকারীপক্ষ জানায়, এরপর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য ওঠে। তবে বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রত বোধ করে বিষয়টি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি শুনানির জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় রিটের ওপর শুনানি হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, শুনানি নিয়ে রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গুমসংক্রান্ত কমিশনের দাখিল করা দুটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের বৈধতা নিয়ে রিটটি করা হয়েছিল বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আজিজুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কারণ গুম কমিশন গঠনের যে সার্কুলার, তাতে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাহলে কমিশন তদন্ত শেষ না করে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেয় কীভাবে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না, রিট আবেদনকারীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান আজিজুর রহমান।
রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, ১৯৫৬ সালের ইনকোয়ারি কমিশন অ্যাক্টের ৩ ধারার অধীন গঠিত গুমসংক্রান্ত কমিশনের দাখিল করা ওই দুটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন (২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৪ জুন দাখিল করা অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন) কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। রিটে আইনসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতিসহ চারজনকে বিবাদী করা হয়।