‘আয়নাঘরের’ আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: চিফ প্রসিকিউটর

রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল (আয়নাঘর) পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ১ আগস্ট ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে আলোচিত রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই সেল ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউটর টিম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ-সংক্রান্ত মামলার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এ পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সেখানে অত্যন্ত ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। ছোট-বড় মিলিয়ে ২৯টি কামরা রয়েছে, যেখানে ভুক্তভোগীদের মানবেতর পরিবেশে রাখা হতো। যাদের ধরে আনা হতো, তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি কাউকে কাউকে বছরের পর বছর সেখানে আটকে রাখা হতো।

‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ১ আগস্ট ২০২৬
ছবি: প্রথম আলো

কামরাগুলোর বর্ণনা দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কক্ষগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না। ভুক্তভোগীদের বসেই দিনের পর দিন ও মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। দীর্ঘদিন আটকে রাখার পর কাউকে কাউকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। এসব তথ্যের সঙ্গে প্রসিকিউশনের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার মিল পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সেলে বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকেও (আরমান) রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আয়নাঘরের অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আলামত নষ্টের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, আইন অনুযায়ীই এ পরিদর্শন হয়েছে। তবে তাঁরা টিএফআই সেল দেখতে আসেননি। তাঁর ভাষ্য, টিএফআই একটি ধারণা, এটি কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান নয়।

পরিদর্শনে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্নমত ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মানুষকে গুম করে সেখানে নির্দয়ভাবে আটকে রাখা হতো।