তোমরা কী বানিয়েছিলে?

সামিয়া: এবারের থিম (মূল ধারণা) ছিল স্মার্ট সিটি। এর অধীনে অনেকগুলো সাব (উপ) থিম ছিল। আমরা ৬টি রোবট প্রস্তুত করেছিলাম।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে কীভাবে?

সামিয়া: আমাদের আরেকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচির কারণে সেখানে অংশ নেওয়া হয়নি। পরে এক দিনের মধ্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে অংশ নেব।

প্রস্তুতি কেমন ছিল?

সামিয়া: বলতে গেলে ছয় মাসের কম সময়ে আমরা নিজেদের প্রকল্প গুছিয়েছি। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষাও ছিল।

তোমাদের দলটি তিনজনের। একসঙ্গে হলে কীভাবে?

সামিয়া: আমাদের দলের সদস্য মাইশা সোবহান আমার আত্মীয় এবং আমরা একই সঙ্গে পড়ি। আমরা যখন বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডে (বিডিআরও) ব্রোঞ্জ জিতি, তখন বিডিআরও থেকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয় মার্জিয়া আফিফাকে। সে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে।

রোবোটিকস আগ্রহী কীভাবে?

সামিয়া: আমি বিভিন্ন বিষয়ে এক্সপ্লোর (জানতে ও বুঝতে) করতে পছন্দ করি। নানান প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ চারপাশে রোবোটিকস নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখে এর প্রতি আগ্রহী হই।

রোবট তৈরির উপকরণ জোগাড় হলো কীভাবে?

সামিয়া: ঢাকায় নির্দিষ্ট কিছু দোকান আছে, যেখানে এসব পাওয়া যায়। এ ছাড়া কিছু অনলাইন শপও (দোকান) আছে। আমরা ইউটিউব দেখে এবং মেন্টরদের (পরামর্শক ও সহায়তাকারী) কাছে জেনে নিতাম কী কী লাগবে।

মা-বাবা কী বলতেন?

সামিয়া: মা-বাবা কোনো কিছুতেই না করেননি। অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।

কারও সহায়তা পেয়েছিলে?

সামিয়া: আমাদের মেন্টর রাশেদুল হকের নাম বলতেই হবে। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন। বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের মেন্টর মিশাল ইসলাম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সাহস জোগানো থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পাশে থেকেছেন।

বন্ধুরা কী বলছে?

সামিয়া: আমার মনে হয়, আমার চেয়ে ওরাই বেশি খুশি।

রোবোটিকস নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সামিয়া: এত বড় একটা অর্জনের পর এখন রোবোটিকসে বাড়তি মনোযোগ দিতে চাই।

থাইল্যান্ডে গিয়ে কী বুঝলে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কতটা ভালো করছে?

সামিয়া: আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে গিয়ে দেখলাম, অন্যান্য দেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী আসে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সংখ্যা খুব কম। আমাদের এখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির পড়াশোনার চাপে ভিন্ন কিছু করার কথা ভাবতে পারে না। তবে প্রযুক্তি এখন হাতের মুঠোয়। ইউটিউব আছে, রোবোটিকস নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে, নিজ উদ্যোগে শিখতে হবে।