গত ১ জুন হাইকোর্ট এই তিন মামলা নিয়ে শফিকুলের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মামলা তিনটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক তিনটি আবেদন করে, যা চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আজ কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম ও অমিত দাশগুপ্ত। শফিকুলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বি এম ইলিয়াস ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

পরে বি এম ইলিয়াস প্রথম আলোকে বলেন, তিন মামলা নিয়ে শফিকুলের করা আপিল ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ এই আদেশ দিয়েছেন। এ সময় পর্যন্ত তিনটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে আপিলগুলো শুনানির জন্য রয়েছে।

শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পৃথক তিন মামলায় গত বছরের ৮ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি আপিল করেন শফিকুল, যার শুনানি নিয়ে ১ জুন হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন। সাইবার ট্রাইব্যুনালে থাকা মামলার নথিও তলব করা হয়।

২০২০ সালের ৯ মার্চ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় শফিকুল ইসলামসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুজ্জামান।

পরদিন শফিকুল নিখোঁজ হন। ৫৩ দিন পর একই বছরের ২ মে গভীর রাতে যশোরের বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্তের একটি মাঠ থেকে তাঁকে উদ্ধারের কথা জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।

পরের দিন অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিজিবির করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে যশোরের আদালতে হাজির করা হয় শফিকুলকে। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, রাজধানী হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় একই বছরের ১০ ও ১১ মার্চ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শফিকুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন যুব মহিলা লীগের দুই নেত্রী। এসব মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তারের প্রায় ৮ মাস পর ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান শফিকুল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন