মেনোপজ নিয়ে চিকিৎসকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ
নারী স্বাস্থ্যের আলোচনায় একটি অবহেলিত বিষয় হচ্ছে মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি। ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে স্বাভাবিক ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার আগে-পরে নারীদের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন হট ফ্লাশ (ঘাম ও দ্রুত হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে তীব্র গরম লাগার অনুভূতি), অতিরিক্ত ঘাম, মুড সুইং, নির্ঘুম অবস্থা, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া। এসব মিলিয়ে এই সমস্যাকে বলা হয় পোস্ট মেনোপজাল সিনড্রোম। এ সময়ের নারীদের জীবনাচরণের জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা রয়েছে।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
অনুষ্ঠানে মেনোপজের বাংলাদেশ পরিস্থিতি, শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, লাইফস্টাইল বা জীবনাচরণের পরামর্শ ইত্যাদি নিয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের জন্য ‘পজিশন স্টেটমেন্ট’ বা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির উইমেনস হেলথ টাস্কফোর্স। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে এই নির্দেশিকা উন্মোচন করা হয়।
সভায় নির্দেশিকার চুম্বক অংশ উপস্থাপন করেন উইমেনস হেলথ টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব চিকিৎসক নাজমা আক্তার। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির তত্ত্বাবধানে ২০ জন হরমোন বিশেষজ্ঞের এক বছরের প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয়েছে এই নির্দেশিকা। বর্ষীয়ান চিকিৎসক ও গবেষক হাজেরা মাহতাব নির্দেশিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, খুব কম নারী মেনোপজ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। আবার বেশির ভাগ চিকিৎসক এই উপসর্গগুলোকে তেমন আমলে নেন না। এসব সমস্যাকে তাঁরা উদ্বেগ বা মানসিক চাপজনিত সমস্যা হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু মেনোপজাল সিনড্রোমের বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা আছে, আছে জীবনাচরণের কিছু পরামর্শ ও সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন। এ ছাড়া মেনোপজের পর হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, স্থূলতা, অস্টিওপরোসিসসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বয়সে এসব রোগ প্রতিরোধে নারীদেরও সচেতনতা দরকার।