জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩ পদে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগে ১৩টি শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের ২টি ও প্রভাষকের ১১টি পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ঢাকার আদালতের আইনজীবী বিজয়া রানী টিকাদার।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবেদা গুলরুখ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও শিহাব উদ্দিন খান।
আইনজীবী আবেদা গুলরুখ আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়নে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ন্যূনতম নির্দেশিকা’ নামে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, যা ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল প্রণয়ন করা হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এতে অনুমোদন দেয়। ওই নির্দেশিকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা আছে।
ইউজিসির ওই নির্দেশিকায় কোথাও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়নি বলে জানান আইনজীবী আবেদা গুলরুখ। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটেই রিটটি করা হয়েছিল।
আইনজীবী আবেদা গুলরুখ জানান, শুনানি শেষে আদালত রুল দিয়ে ২৫ আগস্টের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। রুলে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি এবং এর পরবর্তী কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এদিকে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।