‘আমানুল হকরা বারবার আসেন না, কিন্তু তারা যখন আসেন—তখনই যেন আমরা তাঁদের স্বীকৃতি দিতে পারি, আমাদের মাঝে ধরে রাখতে পারি।’ আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা’ আয়োজিত এক আলোচনায় কথাগুলো বলেন আলোকচিত্রী ও ছবি মেলার প্রধান উপদেষ্টা শহিদুল আলম।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী চিত্রশালায় ‘ফিরে দেখা: আমানুল হক’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। অংশ নেন আলোকচিত্রী ও ছবি মেলার প্রধান উপদেষ্টা শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী ও লেখক নাসির আলী মামুন এবং গবেষক, লেখক ও প্রকাশক মফিদুল হক।
আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ছবি মেলা উৎসবের ১১তম সংস্করণ শেষ হচ্ছে শনিবার। ‘ফিরে দেখা: আমানুল হক’ শীর্ষক আলোচনাটি ছিল এবারের উৎসবের শেষ প্যানেল আলোচনা।
আলোচনায় আলোকচিত্রী ও লেখক নাসির আলী মামুন বলেন, আমানুল হকের সময়ে দেশে ফটোগ্রাফির কোনো স্টুডিও বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। যমুনা নদীই ছিল তাঁর ছবি তোলার জগৎ ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমানুল হক ছবি দিয়ে বাংলার নদী, মানুষ ও জীবনের হাজার বছরের ইতিহাস তুলে ধরেছেন।
গবেষক, লেখক ও প্রকাশক মফিদুল হক বলেন, আমানুল হকের প্রতিটি ছবিতে মানব অস্তিত্বের চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোকে ধারণ করার প্রয়াস দেখা যায়। একই সঙ্গে প্রতিটি ছবিতে তিনি রোমান্টিসিজমের এক ব্যক্তিগত ছাপ রেখে গেছেন, যা তার সৃষ্টিগুলোতে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে।
ছবি মেলার এবারের আসরে ১৬ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের অন্যতম একটি প্রদর্শনী ‘দ্য রোমান্টিক ডকুমেন্টেরিয়ান’। এতে প্রদর্শিত হয় বরেণ্য আলোকচিত্রী আমানুল হকের হৃদয়স্পর্শী কাজগুলো। আমানুল হক ১৯৫০-এর দশক থেকে বাংলাদেশের কঠোর বাস্তবতা এবং কোমল রোমান্টিসিজম মিশিয়ে তাঁর ছবির মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্নিহিত নানা উপাদান তুলে ধরেছেন।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে শেষ সময়ের চিকিৎসায় অনেকে এই বরেণ্য আলোকচিত্রীর পাশে দাঁড়াননি। দেশ থেকেও কোনো সহায়তা পাননি তিনি।
উৎসবটি শনিবার পর্যন্ত চলবে ঢাকার পাঁচটি স্থানে। স্থানগুলো হলো জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (দক্ষিণ প্লাজা)।
আয়োজকরা জানান, এবারের সংস্করণে ‘পুনঃ’ ভাবধারার আলোকে পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে ৫৮জন অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়েছেন। একক ও দলীয় প্রদর্শনীগুলোর পাশাপাশি ছিল আর্টিস্ট টক, প্যানেল আলোচনা ও ফিল্ম স্ক্রিনিং।
উৎসবের শিক্ষামূলক মাত্রাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ছয়টি ইন্টেন্সিভ কর্মশালা ও জানুয়ারি ২৫–২৯ তারিখ স্থানীয় স্কুলগুলোকে নিয়ে একটি শিক্ষামূলক প্রচার কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় হাজারও শিক্ষার্থী।