কানাডার নাগরিক তানভীর মামলায় জেরবার, তিনি কেন আসামি জানেন না বাদীও
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অন্তত চারটি মামলায় আসামি করা হয়েছে তানভীর আলীকে। পুলিশসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা ও নথি বলছে, এসব মামলায় বাদী, সাক্ষী ও ঘটনাস্থলের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন আছে। তবু এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আইনি প্রতিকার পাননি তিনি। এখনো তাঁকে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে।
তানভীর আলী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন কানাডীয় নাগরিক। বাংলাদেশ ও বিদেশে ৭৫টির বেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সঙ্গে যুক্ত তিনি। তাঁকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর (স্বতন্ত্র পরিচালক) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আয়োজনে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে তিনি কি-নোট স্পিকার ছিলেন।
তানভীর আলী গুলশান, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থানার তিনটি হত্যা মামলা এবং রামপুরা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রথম আলোকে বলেছেন, সব কটি মামলাতেই তানভীর আলীকে ফাঁসানো হয়েছে। পারিবারিক ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠরাই তাঁকে একের পর এক মামলায় ফাঁসিয়েছে। এমনকি তিনি যেন নির্বিঘ্নে জামিন না পান, সে জন্যও এই চক্র সক্রিয়।
মামলার নথিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তানভীর আলীর পরিচয় লেখা হয়েছে—তিনি গুলশান থানা আওয়ামী লীগের নেতা। একটি মামলায় বলা হয়েছে, তিনি গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আরেকটি মামলায় বলা হয়েছে, তিনি গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। সব মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া হত্যার পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতা।
সাজানো আসামি
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার ভাটারায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপোর্ট স্টাফ আবদুল্লাহ আল আবির গুলিতে নিহত হন। তবে ঘটনার স্থান গুলশান থানা এলাকায় উল্লেখ করে ২০ আগস্ট আদালতে অভিযোগ দেন মাহমুদ আহেদ আলী নামের এক ব্যক্তি। মামলার অভিযোগে তানভীর আলীকে গুলশান থানা আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয়, গুলশানের বারিধারা সোসাইটি এলাকার পার্ক রোড অ্যাভিনিউ। এই অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশকে তদন্ত করতে বলা হয়।
তানভীর আলী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত একজন কানাডিয়ান নাগরিক। বাংলাদেশ ও বিদেশে ৭৫টির বেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সঙ্গে যুক্ত তিনি। তাঁকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এ মামলায় তানভীর ছাড়াও আরও ৯ জনকে আসামি করা হয়। তবে তানভীর ছাড়া আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অভিযোগে ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর ভুয়া, এমন কোনো মুঠোফোন নম্বর কারও নামে নিবন্ধন করা হয়নি, ১৯ জুলাই গুলশান থানা এলাকায় কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, সাক্ষীরাও শনাক্তযোগ্য নন। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর গুলশান থানা পুলিশ এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে পুরো ঘটনাকে সাজানো বলে উল্লেখ করে।
তানভীর আলী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁকে তিনটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জড়িয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানে, তিনি কোনো সহিংসতায় জড়িত নন, তবু দীর্ঘ সময়েও কার্যকর আইনি প্রতিকার মিলছে না।
একের পর হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। পাশাপাশি শ্রম, সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও মনোযোগ দিতে পারছি না।
মামলার কারণে নিয়মিত হয়রানি ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তানভীর আলী বলেন, ‘একের পর হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। পাশাপাশি শ্রম, সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও মনোযোগ দিতে পারছি না।’
এদিকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, তানভীর আলীকে আওয়ামী লীগের নেতা উল্লেখ করা হলেও তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি কানাডার নাগরিক ও একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তিনি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে পারেন না। অনেক খোঁজ করেও মামলার বাদী মাহমুদ আহেদ আলীকে না পাওয়ায় ফলাফল জানানো যায়নি।
আদালতে এ প্রতিবেদন দিয়েছেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোমেন মিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে যা পাওয়া গেছে, সেটাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি মামলার বাদী জোসনা বেগম বলেন, তিনি এ মামলার আসামিদের কাউকেই চেনেন না। মামলা করলে সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে—এমন আশ্বাসে তাঁকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মামলা করতে নিয়ে যান। যাঁর মাধ্যমে মামলা করেছেন, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
পুলিশের এমন প্রতিবেদনের পরও এ মামলা থেকে রেহাই মেলেনি তানভীরের। আদালত মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য গত বছরের ২৫ অক্টোবর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠায়। এখন এ মামলা সিআইডি তদন্ত করছে।
সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ছিবগাত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য সিআইডিতে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।
তানভীর কীভাবে আসামি, জানেন না বাদী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. ইমন নামের এক তরুণ। এ ঘটনায় ইমনের মা জোসনা বেগমের আবেদনের ভিত্তিতে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আর তানভীর আলীকে করা হয় ৮৩ নম্বর আসামি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত স্বার্থে নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ওঠায় ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৭৩(এ) ধারা যুক্ত করার উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধিত ১৭৩(এ) ধারা মূলত তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি থেকে রক্ষার একটি আইনগত সুযোগ।
বাদী জোসনা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এ মামলার আসামিদের কাউকেই চেনেন না। মামলা করলে সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে—এমন আশ্বাসে তাঁকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মামলা করতে নিয়ে যান। যাঁর মাধ্যমে মামলা করেছেন, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
পরে জোসনা বেগম আদালতে বলেন, তিনি তানভীর আলীকে চেনেন না। তানভীর আলীর বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তানভীর আলীকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দিলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
সরকারের সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করছেন, এমন একজন মানুষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি অবশ্যই এসব মামলা থেকে প্রতিকার পাওয়ার যোগ্য। তদন্ত সংস্থা চাইলে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধিত ১৭৩(এ) ধারায় তানভীর আলীকে অব্যাহতি দিতে পারে।
মামলাটি প্রথম তদন্ত করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইমন হত্যার ঘটনায় এটি ছিল দ্বিতীয় মামলা। এ মামলা হওয়ার আগেই ইমনের স্বজনেরা কদমতলী থানায় আরও একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। এখন এ মামলা তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
আরও দুই মামলায় একই চিত্র
উত্তরা পূর্ব থানায় তানভীর আলীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এ মামলার বাদী মাহবুবুল আলম। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় উত্তরা পূর্ব থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ১৮ বছর বয়সী তরুণ নাজিম উদ্দিন। মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তানভীর ৯৩ নম্বর আসামি।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তানভীর আলীকে স্টার্টআপ বিনিয়োগ বোর্ডের ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই নিয়োগের সাড়ে চার মাস আগে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট তানভীরের বিরুদ্ধে প্রথম হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার এজাহারে বাদী মাহবুবুল আলমের যে মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নম্বরে এক মাস ধরে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। এ মামলা তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তানভীর আলীকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রামপুরা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। নাহিদ হাসান নামের এক তরুণকে গুলি করে হত্যাচেষ্টায় এ মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। তানভীর এ মামলারও ৯৩ নম্বর আসামি।
এ মামলায় তানভীর আলীর পরিচয় সম্পর্কে বলা হয়, তিনি গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি অর্থের জোগানদাতা ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।
বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত আছি। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তাঁকে এসব হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
মামলার বাদী নাহিদ হাসান এজাহারে যে মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করেছেন, সেই নম্বরে চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোহসীন প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। এ কারণে এখন কিছু বলা সম্ভব নয়।
বাদীর মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তাঁর কোনো খোঁজ জানেন কি না—জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তিনিও ওই নম্বর বন্ধ পান। বিভিন্ন সময় বাদী থানায় আসেন, তখন দেখা হয়।
আইনি সুযোগ থাকলেও অব্যাহতি মেলেনি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত স্বার্থে নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ওঠায় ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৭৩(এ) ধারা যুক্ত করার উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধিত ১৭৩(এ) ধারা মূলত তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি থেকে রক্ষার একটি আইনগত সুযোগ।
এ ধারায় বলা হয়েছে, পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বা এসপি পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা যুক্তিসংগত মনে করলে তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো মামলার প্রাথমিক বা অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিলের নির্দেশ দিতে পারেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই, তাহলে বিচার শুরুর আগেই, অর্থাৎ প্রিট্রায়াল পর্যায়ে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
এরই মধ্যে এ ধারার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তবে তানভীর আলীকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তানভীর আলী একজন ব্যবসায়ী। তাঁকে একটি চক্র ফাঁসিয়েছে, সেটি সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জানেন। এরই মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। সরকারের সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করছেন, এমন একজন মানুষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি অবশ্যই এসব মামলা থেকে প্রতিকার পাওয়ার যোগ্য। তদন্ত সংস্থা চাইলে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধিত ১৭৩(এ) ধারায় তানভীর আলীকে অব্যাহতি দিতে পারে।
হত্যা মামলার আসামি থেকে বোর্ড পরিচালক
বাংলাদেশে ২০১৩ সাল থেকে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক উদ্যোগ স্টার্টআপের ধারণা পরিচিতি পেতে শুরু করে। কোভিড মহামারি শুরুর পর ২০২০ সাল থেকে স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বেড়ে যায়, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ। পাশাপাশি দেশীয় কিছু উদ্যোগও এগিয়ে আসে।
স্টার্টআপের এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারও কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তানভীর আলীকে স্টার্টআপ বিনিয়োগ বোর্ডের ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এই নিয়োগের সাড়ে চার মাস আগে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট তানভীরের বিরুদ্ধে প্রথম হত্যা মামলা করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আনা হয়। ১২ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখার পর ডিবি পুলিশ তাঁকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে। পরে গুলশান থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে তিনি জামিন পান।
তানভীর আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দর থেকে আটকের সময় তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি। সাদাপোশাকধারীরা তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়। পরে জানতে পারেন, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি নিজেই উচ্চপর্যায়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেন। তদন্তে মামলাগুলো সাজানো প্রমাণিত হয়। এ জন্যই তাঁকে স্টার্টআপ বাংলাদেশের পরিচালক করা হয় এবং এখন তিনি সরকারের সঙ্গেই কাজ করছেন।
তানভীর আলী বলেন, ‘সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু দেড় বছর পরও আমি কোনো প্রতিকার পাইনি। কবে প্রতিকার পাব, সেটাও জানি না। অথচ আমি এই সরকারের হয়েই কাজ করছি।’
এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশের বোর্ড অব ডিরক্টরেটের চেয়ারম্যান শীষ হায়দার চৌধুরীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত আছি। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তাঁকে এসব হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’