রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল সকালে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন পেশাজীবী ও সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ‘সমুদ্রদূষণ বন্ধ করি’, ‘নারীর প্রতি অবিচার বন্ধ করি’, ‘বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করি’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড ছিল অংশগ্রহণকারীদের হাতে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আলোচনা অনুষ্ঠান হয়।

প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক জাফর সাদিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার। আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইলিয়াছ হোসেন, রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহা. হবিবুর রহমান, প্রথম আলোর হেড অব কালচারাল গ্রোগ্রাম কবির বকুল, ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা ফকরুল আহসান, ইউএনডিপির এসসিফোরএসডিজি প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েট ফারহানা রাজ্জাক, প্রথম আলো রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উত্তম রায় প্রমুখ।

ফকরুল আহসান বলেন, বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে। সর্বত্র টেকসই উন্নয়ন দরকার। এ জন্য দ্রুত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে। এটা এমনভাবে হবে না, যাতে পরিবেশের ক্ষতি হয়। সবার অংশগ্রহণ দরকার। এ জন্য নারী ও যুবকদের ভূমিকা রাখতে হবে।

অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, প্রথম আলো শুধু জনগণকে সংবাদ জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করেনি। তারা সমাজের বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়েছে। আয়োজনটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের সব মানুষকে অংশগ্রহণ করাতে হবে। আর যদি এটা না করা যায়, তবে সে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

এসডিজি বাস্তবায়নে কাদের কীভাবে কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে হবে, বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনে কত দূর এগিয়েছে, আরও কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে; তা উপস্থাপন করেন ফারহানা রাজ্জাক।

নারী উন্নয়ন নিয়ে মঞ্চে কথা বলেন কবির বকুল। তিনি সবাইকে নিজের লেখা গান গেয়ে শোনান, ‘একটি গল্প শোনাব আজ/ বলব এক দেশের কথা/ ধর্ম যেখানে টানেনি দেয়াল/ ছোঁয়নি সাম্প্রদায়িকতা/ সেই তো আমার বাংলাদেশ/ প্রিয় আমার বাংলাদেশ...।’

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এসডিজি প্রচারাভিযানের সফলতা কামনা করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, প্রথম আলো দেশব্যাপী একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে লক্ষ্য অর্জনের জন্য। তিনি এই কাজের সঙ্গে আছেন, থাকবেন। কাজটি এ দেশের নারী ও যুবকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

যাঁরা ঘাম–শ্রম দিয়ে এ দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের এসডিজি সম্পর্কে সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে বলে মত দেন প্রধান অতিথি গোলাম সাব্বির সাত্তার। পরিবেশ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘শিল্পবিপ্লবের নামে অযাচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আজ সর্বনাশ ডেকে নিয়ে এসেছে। তাপামাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। শুধু গাছ লাগালে হবে না, ভবনগুলোতে কী এনার্জি ব্যবহার করা হচ্ছে, ভবনের হিট রেডিয়েশন কত, কত এসি ব্যবহার করা হচ্ছে, কত কার্বন সেখান থেকে যাচ্ছে—সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে অঙ্ক কষে কিছু না করা হলে, সেটা টেকসই উন্নয়ন হবে না। প্রকৃতি না বাঁচলে আমরা কেউই বাঁচব না। উন্নয়ন করতে হবে প্রকৃতি বাঁচিয়ে। আর এই উন্নয়নে সবাইকে অংশগ্রহণ করাতে হবে।’

অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় রাজশাহী বিভাগের ১৪টি বন্ধুসভার সদস্য, হিজড়া, হরিজন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও প্রান্তিক কৃষকেরা অভিমত তুলে ধরেন। এসডিজি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি চত্বরে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়। বিচারক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক তাহমিদুর রহমান, একই অনুষদের শিক্ষার্থী তারিফ হাসান, দিনা জামান। বারোয়ারি বিতর্কে বিচারক ছিলেন হাসান মাহমুদ, সাওদা জামান ও মো. সিফাত হোসেন।

দুপুরে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাঙ্কন ও বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় ফারজানা তাবাসসুম। আয়শা খাতুন দ্বিতীয় ও নওরীন সিদ্দিকী তৃতীয় হয়। বারোয়ারি প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মামুনুজ্জামান স্নিগ্ধ প্রথম, সুমাইয়া জেসমিন দ্বিতীয় ও দিপালী বাছার তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।