‘এইচএসবিসি-এইউডব্লিউ স্কুল অব অ্যাপারেল: লিডিং দ্য ফিউচার অব ফ্যাশন’ শিরোনামের এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, দেশের পোশাকশিল্পের ৬০ শতাংশ কর্মীই নারী। তাঁদের শ্রমে-ঘামে এ শিল্প খাত তৈরি হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন পোশাক রপ্তানির স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। এ জন্য নারীদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এ দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।

৪০ বছর আগে যখন এ শিল্প খাতের শুরু হয়, তখন নারীরা মেশিন চালাতে জানতেন না। সেই জায়গার বিশাল পরিবর্তন হয়েছে। তাই এইচএসবিসি ও এইউডব্লিউ যে প্রোগ্রাম চালু করছে, সেটির মাধ্যমে নারী নেতৃত্ব তৈরি হবে। এগিয়ে যাবে পোশাকশিল্প।
এইচএসবিসির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হেড অব কমার্শিয়াল ব্যাংকিং অ্যামান্ডা মারফি প্রোগ্রামটি চালু করতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির বিকাশ ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পোশাকশিল্পের দ্রুত বৃদ্ধি হচ্ছে।

এইউডব্লিউর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামটি চালু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি শিল্পে ক্রমাগত উদ্ভাবন চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধাবীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারব। এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, প্রোগ্রামটি নারীদের পেশাদারি করা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করবে।’

নারীশিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পল নাইরুপ রাসমুসেন। তিনি বলেন, নারীশিক্ষায় বিনিয়োগ করলে, নানাভাবে তার ফল ভোগ করবে সমাজ। এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বৈষম্য দূর হবে। নারীরা এগিয়ে গেলেই রাষ্ট্রের আসল উন্নয়ন ঘটে।

অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন ছিল প্যানেল আলোচনা। পোশাকশিল্পে নারীর অবদান ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ইন্ডিটেক্সের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রিজিওনাল হেড হাভিয়ের স্যানতোজা, এইচ অ্যান্ড এমের রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, এফসিআই গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহের মানজের মতিন এবং প্যাসিফিক জিনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েদ তানভীর।

প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন উপাচার্য রুবানা হক। এ সময় আলোচকেরা বলেন, নারীর অগ্রগতি ছাড়া কোনোভাবেই পোশাকশিল্প এগোবে না। এ খাতের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কর্মীই নারী। ফলে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সবাইকে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি সামাজিক সুবিধা বাড়াতে হবে।

রুবানা হক আলোচকদের প্রশ্ন করে বলেন, চতুর্থশিল্প বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নারীদের ভূমিকা কী হবে? কোন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। উত্তরে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, নারীর অগ্রগতি ছাড়া চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও একাডেমিয়াকে নারীর দক্ষতা বাড়াতে কাঠামো তৈরি করতে হবে। কোন কোন দক্ষতা দরকার তা, খুঁজে বের করতে হবে।

আয়োজকেরা জানান, অ্যাপারেল ও রিটেইল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এক বছর মেয়াদি একটি মাস্টার্স অব সায়েন্স প্রোগ্রাম এটি। এইচএসবিসির জনকল্যাণমূলক সহায়তা ও অর্থায়নে প্রোগ্রামটি পরিচালিত হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাডেমিক কমিটি হবে। কমিটির সভাপতিত্ব করবেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের সাবেক ডিন দীপক সি জৈন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এই প্রোগ্রাম তরুণ প্রজন্মের নারী পেশাজীবীদের ফ্যাশন, মার্চেন্ডাইজিং, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা–সম্পর্কিত বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে তুলবে। মূলত ক্রমবর্ধমান পোশাকশিল্পের পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো লক্ষ্যে এটি চালু করা হচ্ছে।

প্রোগ্রামটির আওতায় এইউডব্লিউর শিক্ষার্থীরা ১৩টি কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম বছরে এই প্রোগ্রামে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হবে। ম্যাক ল্যাব ডিজাইন, কারিকুলাম, ফ্যাকাল্টি, আইটি ও ক্লাসের অবকাঠামোসহ যাবতীয় কাজে সহায়তা করবে এইচএসবিসি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমেদ, বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান প্রমুখ।