জাতীয় কবিতা পরিষদের সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা শুরু, উগ্রবাদ রুখে দাঁড়ানোর তাগিদ

‘সংস্কৃতিবিরোধী উগ্রবাদ রুখে দাঁড়াও’ স্লোগান নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী মিছিল আয়োজন করে জাতীয় কবিতা পরিষদছবি: মীর হোসেন

মাসব্যাপী ‘সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা’ কর্মসূচি শুরু করল জাতীয় কবিতা পরিষদ। ‘ধর্মান্ধ মৌলবাদী চক্রের বিভীষিকাময় উত্থান’ প্রতিরোধ করতে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে বলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় কবিতা পরিষদের মানববন্ধন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় ‘সংস্কৃতিবিরোধী উগ্রবাদ রুখে দাঁড়াও’ স্লোগান নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী মিছিল আয়োজন করে জাতীয় কবিতা পরিষদ। মানববন্ধনের শুরুতে কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অর্জিত গণতান্ত্রিক সম্ভাবনাকে পুঁজি করে দেশে উগ্রবাদী অপশক্তির বিভীষিকাময় উত্থান ঘটেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিক অগ্রযাত্রাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই অশুভ চক্রান্তের বিরুদ্ধে এখনই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি প্রয়োজন। সেই তাগিদ থেকেই এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদী মিছিল আয়োজন করা হয়েছে।’

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, যারা এই দেশ চায়নি, স্বাধীনতা চায়নি তারা এখন আবার অগণিত শহীদের রক্ত ও মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা হাজার বছরের সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতিকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করতে চায়। এই চক্র তথাকথিত মবসন্ত্রাসের মাধ্যমে বাক্স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করে দিতে উদ্ধত হয়েছে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্বিচারে নগ্ন হামলা চালাচ্ছে। গণতন্ত্রকামী প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তারা ন্যক্কারজনক বিষোদ্গার, কুৎসা ও অপপ্রচারে লিপ্ত। পবিত্র ধর্মের অপব্যাখ্যা ও বিকৃত ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সুদূরপ্রসারী দুরভিসন্ধি তারা লালন করছে। দেশের কবি, লেখক, সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাদের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সচেতন আছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শোষণ-ত্রাসন-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছি।’

কবিতা পরিষদের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার (তপন) বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা বাক্স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক অধিকার রুদ্ধ করতে আবার তাদের পুরোনো কায়দার সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সকল প্রগতিশীল শক্তিকে মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে কবিতা পরিষদের নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন কবি নুরুন্নবী সোহেল, জামিল জাহাঙ্গীর, রাসেল আহমদ, কৌমুদী নার্গিস, হিমেল ইসহাক,আবুজার গিফারিসহ অনেকে। সঞ্চালনা করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সহসভাপতি এ বি এম সোহেল রশিদ।

পরিষদের নেতারা জানান, মাসব্যাপী এই সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা কর্মসূচি চলবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কবিতা পরিষদ সমমনা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতায় প্রতিবাদী কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা, সমাবেশ, দেয়াললিখন, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। রাজধানীর বাইরে দেশের বিভাগ, জেলাসহ কবিতা পরিষদের এলাকাভিত্তিক শাখাগুলো নিজ নিজ এলাকায় মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে। গণতন্ত্রকামী মুক্তচিন্তার অধিকারী অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে এসব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য কবিতা পরিষদ আহ্বান জানিয়েছে।

মানববন্ধন শেষে শুরু হয় প্রতিবাদী মিছিল। মিছিলটি কদমফুল ফোয়ারার মোড় ঘুরে সেগুনবাগিচা দিয়ে শিল্পকলা একাডেমির প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়।