আলোচনা ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দেওয়ায় উদ্বেগ বিএফইউজের

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, তল্লাশির সুযোগসহ নিপীড়নমূলক সব ধারা বহাল রাখায় এবং অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই মন্ত্রিসভায় সাইবার নিরাপত্তা আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ, মতামত ও প্রস্তাব উপেক্ষা করে আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন সরকারের একগুঁয়ে ও দমনমূলক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনটি কার্যকর হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতোই সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করবে এবং ভয়ের পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকবে। বিএফইউজের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৮টি ধারা বাতিল ও ৪টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাবনাসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা অগ্রাহ্য করা দুঃখজনক। বিএফইউজে আশা করে আইনটি সংসদে পাসের আগেই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নিপীড়নমূলক ধারা বাতিল ও বিতর্কিত ধারা সংশোধন করা হবে।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ১০ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আইনটি প্রণয়নের আগে অংশীজনের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। সাংবাদিকদের জন্য এই আইনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় উপপরিদর্শক (এসআই) মর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া। এই ধারা আইনের অপপ্রয়োগের সবচেয়ে ভয়ংকর হাতিয়ার। এটি আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারায় ছিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আছে, এখন আবার সাইবার সিকিউরিটি আইনেও রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানহানির অপরাধসহ যেসব অপরাধ ফৌজদারি ধারায় বিচারের সুযোগ রয়েছে, সেই ধারা এই আইনে এনে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা সংবাদকর্মীদের জন্য খুবই উদ্বেগের। এ বিধান অবশ্যই বাতিল করতে হবে।
বিএফইউজে নেতারা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও নিপীড়নমূলক ধারা বাতিল ছাড়া আইনটি সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।