বাপা-বেনের পরিবেশ সম্মেলন ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু

বাপা-বেন সম্মেলন নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতেছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্কের (বেন) দুই দিনব্যাপী বাপা–বেন সম্মেলন ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

রাজধানীর ফার্মগেটে কেআইবি কনভেনশন সেন্টারে বাপার ২৬তম এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন শুরু হবে সকাল সাড়ে নয়টায়, শেষ হবে বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।

আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে বাপা–বেন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্মেলনে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পরিবেশবিষয়ক সংস্কার ও করণীয়’।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাপা–বেনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিবেশবিষয়ক কোনো সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টিতে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সে শূন্যতা পূরণের একটা রূপরেখা এ সম্মেলনে হাজির করা হবে।

আগামী নির্বাচন এ বিষয়টাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে পরিবেশ ইস্যু যেন গুরুত্ব পায় এবং পরিবেশের সমস্যাগুলোর সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবেশের সংকটগুলোর সমাধানে নজরুল ইসলাম পরিবেশবিষয়ক সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিচালনা কাঠামো সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের আমলারা বিদেশে গিয়ে জাতিসংঘ, আইএলও (ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন) নানা নীতিমালায় স্বাক্ষর করে আসেন। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নে তাঁদের মধ্যে কোনো উৎসাহ ও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।

বাপা-বেনের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, শুধু ভালো নীতি হলে হবে না, যেসব প্রতিষ্ঠান এসব নীতি ও আইন বাস্তবায়ন করে সেগুলো সংস্কার করতে না পারলে এসব আইন ও নীতির সুফল পাওয়া যাবে না। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে না বদলানো গেলে শত ভালো নীতি করেও কোনো লাভ হবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বদলানো না গেলে শত পানি উন্নয়ন নীতি করেও কোনো কাজ হবে না। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে কী কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটা এবারের সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনিসেলভেনিয়ার ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বেনের বৈশ্বিক সমন্বয়ক মো. খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নত বিশ্বে যখন পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা দেখি, তখন ভাবি কেন ঠিক এ রকম আমাদের দেশে হয় না।’

খালেকুজ্জামান বলেন, দেশে পরিবেশ সংরক্ষণ উন্নত বিশ্বের মতো হোক, সেটা আমরা চাই। দেশের নদী–নালা, খাল–বিল ও হাওর–বাঁওড় সব নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলোকে কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহমান করা যায় সেটা নিয়ে এবারের সম্মেলনে আলোকপাত করা হবে।

এ সম্মেলনে একাডেমিক সেশনের সঙ্গে জেনারেল সেশনও থাকবে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ও বাপার সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনে পরিবেশ, বন, নদী, জলাশয়, কৃষির ওপর বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হবে।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্সের ডিন ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, এবারের সম্মেলনে গত ২৫ বছরের সম্মেলনে প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত, প্রবন্ধ সব কটিকে একসঙ্গে সংকলন করে বই আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে, যেটি সংবাদকর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স হিসেবে কাজ করবে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, সাতটি বিষয়ের ওপর এবারের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আছে নদ–নদী ও পানিসম্পদ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, নগরায়ণ ও ভৌত পরিকল্পনা, যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি, মৃত্তিকা ও খাদ্যদূষণ, বায়ু, শব্দ ও পানিদূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও উপকূল, বন্দর ও সমুদ্র পরিবেশ সুরক্ষা। এ সাতটি বিষয়ের ওপর শতাধিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।