প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছিল মাস ধরে, বছর ধরে: জাহেদ উর রহমান

প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’ পরিদর্শনে অন্যান্য অতিথির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারেছবি: প্রথম আলো

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলা করার সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছিল এক মাস ধরে, বছর ধরে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এই চেষ্টাটা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর পুড়িয়ে দেওয়া ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর তিনি এ কথা বলেন। জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ভবন পরিদর্শনে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। পরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও ভবনটি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই যে হামলাটা হবে, আগুন লাগানো হবে, সেটির কনসেন্ট ম্যানুফ্যাকচার (সম্মতি উৎপাদন) করা হচ্ছিল ওভার দ্য মান্থ, ওভার দ্য ইয়ারস (মাস ধরে, বছর ধরে)। বিভিন্ন জায়গা থেকে এই চেষ্টাটা হয়েছে। অ্যাকটিভিস্টের জায়গা থেকে আজকে ঘটনাচক্রে আমি সরকারের অংশ। যে কথা আমাদের দুজন মন্ত্রী বললেন, আমরা অবশ্যই যেকোনো মূল্যে এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। একটা জরুরি দায় আমাদের আছে যে সম্মতি উৎপাদন করার যখন চেষ্টা হয়, সে চেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।’

এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে নাগরিকদের দাঁড়ানো উচিত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘যেকোনো পত্রিকার নিজস্ব ইডিওলজিক্যাল (আদর্শগত) অবস্থানও থাকতে পারে। যদি সেটা থেকেও থাকে, তার সমালোচনা হতে পারে। তার বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক যেকোনো প্রতিবাদ হতে পারে। আমরা এই পর্যন্ত রাজি আছি। কিন্তু যে ধরনের হুমকি হয়েছে, যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেখানে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারত। এখানে (প্রথম আলো) কম মানুষ ছিলেন, ডেইলি স্টারে অনেক মানুষ আটকা পড়েছিলেন। এই রকম কোনো কিছুর সম্মতি বাংলাদেশে তৈরির চেষ্টা কেউ যদি করে, তার বিরুদ্ধে নাগরিকদের দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করি।’

সরকারের দিক থেকে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা নেওয়া হবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আর নাগরিক হিসেবে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। শেখ হাসিনার স্বৈরাচার সরিয়ে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ সরিয়ে আমার ফ্যাসিবাদ এখানে কায়েম করব, আমি বলে দেব ডেইলি স্টার থাকবে না, প্রথম আলো থাকবে না, বন্ধ করে দিতে হবে। এটির জন্য আমরা আসলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করিনি। খুব ক্ষুদ্র একজন কর্মী হিসেবে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইকারী হিসেবে বলতে চাই, আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করতে চেয়েছি। সংবাদমাধ্যম এই চেষ্টাটা যেন করে তাদের জায়গা থেকে। যেন বাংলাদেশে আর কোনো দিন এসব না হয়। সরকারের কাজ সরকার নিশ্চয়ই করবে।’