গ্রাম আদালত নিয়ে হাইকোর্টের রুল

হাইকোর্ট ভবনছবি: প্রথম আলো

গ্রাম আদালত আইন কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ রুল দেন। এর আগে ২০০৬ সালের ৯ মে গ্রাম আদালত আইন করা হয়।

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কয়েকটি বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠনকল্পে আইনটি প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ১৫ ফেব্রুয়ারি রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।

রে আইনজীবী ইশরাত হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক্‌করণের নীতির পরিপন্থী। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিষয়ে বিচার পরিচালনা ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যে কারণে আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারীর ভাষ্য, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী; কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারক নেই। প্রমাণ, আইন ও কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ নেই এবং আইনজীবীর অংশগ্রহণ সীমিত। ফলে ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ভৌগোলিক ভিত্তিতে আলাদা বিচারব্যবস্থা নাগরিকদের সমতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১) লঙ্ঘন করে।