ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় দিনের চেয়ে রাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়। তাঁর মতো একই ধারণা দেন ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আমির আলী।

সপ্তাহ শেষে নেই নতুন সিদ্ধান্ত

ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। দিনের বেলায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা হলেও রাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে কোথাও কোথাও। গ্রাহকদের নিয়ম মেনে লোডশেডিং দিতে হিমশিম খাচ্ছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি। এক ঘণ্টার লোডশেডিং মানতে পারছে না তারা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে। যদিও গত সোমবার এক সপ্তাহ শেষ হওয়ার পর কিছু জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, লোডশেডিংয়ের বিষয়ে এখনো নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শিগগিরই জানানো হবে।

আরইবি সূত্র বলছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ–ঘাটতি পেয়েছে তারা। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে রাতের দিকে। এ সময় দিনের চেয়ে বেশি উৎপাদন করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। শিল্পকারখানাসহ জরুরি বিভিন্ন খাতে লোডশেডিং দেওয়া যায় না। এতে করে একই উপকেন্দ্রের আওতায় থাকা কোনো কোনো এলাকায় অনেক বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

default-image

আরইবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সাভারের নবীনগর এলাকায় আরইবির ১৬৯টি ফিডারের (বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া একটি নির্দিষ্ট এলাকা) মধ্যে ১১৬টিতে শিল্পকারখানা রয়েছে। বাকি ৫৩টি এলাকায় লোডশেডিং করার কথা। কিন্তু শিল্প এলাকায় সবাইকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে ৫৩টি এলাকা সব সময় অন্ধকারে থাকবে। তাই মাঝেমধ্যে শিল্প এলাকায়ও লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং

দিনাজপুর শহরের গণেশতলা এলাকায় সোমবার বেলা ১১টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে আটবার। এর মধ্যে সোমবার দুপুরে পাঁচবার ও রাতে একবার এবং গতকাল দুপুর পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। প্রতিবার লোডশেডিংয়ে এক থেকে সোয়া এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে প্রায় ১০ ঘণ্টা।

এই এলাকা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড–২–এর (নেসকো) আওতাভুক্ত। কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শাহাদাত হোসেন জানান, মোট ১২টি ফিডারের প্রতিটিতে এক ঘণ্টা করে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়ার রুটিন করা হয়েছিল। কিন্তু ৪৫-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ–ঘাটতির কারণে রুটিন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

শহরের তুলনায় গ্রাম এলাকায় লোডশেডিং আরও বেশি। দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল হক জানান, সোমবার সকাল থেকে গতকাল পর্যন্ত নয়বার বিদ্যুৎ গেছে। প্রতিবার প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় পরে বিদ্যুৎ আসে।

চাহিদার চেয়ে অর্ধেক সরবরাহ

পাবনা জেলা শহরে প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এ বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৮৫ মেগাওয়াট। প্রতিদিন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২–এ প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৪ মেগাওয়াট। এই এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকের কম।

সিলেট জেলায় পিডিবির চাহিদা ১৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ৭১ দশমিক ৪০ মেগাওয়াট। পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ১১৭ মেগাওয়াটের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ৫৭ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট।

সিলেট শহরের আম্বরখানা, জিন্দাবাজার ও তালতলা এলাকায় বিদ্যুতের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোডশেডিং রুটিন অনুযায়ী হচ্ছে না। প্রতিদিনই রুটিনের বাইরে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। সেটি কখনো আধা ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে।

গ্রামে বিদ্যুৎ যাচ্ছে বারবার

পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার দেবত্তর গ্রামের মাসুদ আলম বলেন, দিনের লোডশেডিং মেনে নেওয়া গেলেও রাতে চরম অসুবিধা হয়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। তবে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর মহাব্যবস্থাপক আকমল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় কিছুই করার থাকছে না।

নেসকোর ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী, দিন ও রাতে বগুড়ার কইগাড়ি এলাকায় বেলা ১টা থেকে ২টা এবং রাত ৯টা থেকে ১০টা মোট দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করার কথা। কিন্তু সেখানে দিন–রাতে লোডশেডিং হচ্ছে আট ঘণ্টার বেশি। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিরামের পাঁচগাছি চরের জাকির হোসেন বলেন, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা, রাত ৮টা থেকে ৯টা, ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল। গতকাল সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া এবং প্রতিনিধি, পাবনা, দিনাজপুরসিলেট]

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন