আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এসব কথা বলেন। নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির উদ্যোগে ‘সাইবার সিকিউরিটি ফর উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট ২০২২’ শীর্ষক ৮ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। এ আয়োজনের জন্য আইটি সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘যখন বিনা পয়সায় আমাদের সাবমেরিন কেব্‌ল দিচ্ছিল, তখন নেওয়া হয়নি। কারণ, তখন যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁরা বলেছিলেন, “সব খবর নাকি ফাঁস হয়ে যাবে, কাজেই এটা নেওয়া যাবে না।” এ রকমই ছিল আমাদের অবস্থা।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) আজকে আমাদের আলোকিত করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করবেন। সেই ডিজিটাল বাংলাদেশটা কী, তখন আমরা অনেকেই বুঝিনি। অনেকেই অজ্ঞতার জন্য নানা ধরনের কথাবার্তা বলতেন। আজকে বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে গেছে! সেটার একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হলো আমাদের আইসিটি ও ডিজিটাল জগৎ। আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডিজিটাল জগতে আজকে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাইবার নিরাপত্তা। মেয়েরা অনেক সময় সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে যান।...তবে ডিজিটাল জগতে যে অপরাধ হচ্ছে, তা নিয়ে মেয়েদের ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। এসব অপরাধ নিয়ে আমরা এখন চিন্তা করছি।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘পুলিশকে তো সাজাচ্ছিই, একই সঙ্গে এই জগৎ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা বিভাগই খুলেছি। সেটাকে আমরা বলি এনটিএমসি। সেখানে আমাদের মূল কাজ হলো জনগণকে যেন আমরা দুর্ভোগে না ফেলি, সাইবার অপরাধে কারও যেন কষ্ট না হয়। এ ক্ষেত্রে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। এ জায়গা আমরা আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা নেব। সাইবার জগৎকে জয় করেই আমাদের কাজ করতে হবে আর অপরাধকে দূরে রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুণ অর রশীদ বলেন, ‘সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে অনেকে আমাদের কাছে আসছেন। অনেকের সংসার ভাঙছে, দ্বন্দ্ব হচ্ছে। সাইবার জগৎকে ব্যবহার করে যে কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে, ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে পাঁচটি সাইবার থানা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, ঢাকা শহরে দুই প্রান্তে দুটি সাইবার থানা করা যেতে পারে।’

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হল এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের এই সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। প্রাসঙ্গিক উদ্যোগ নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানাই।’

আইটি সোসাইটির মডারেটর এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, নগদের নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, আইটি সোসাইটির সভাপতি নাজমুস সাকিব ও সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান বক্তব্য দেন।